কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে বির্তকিত শালিক রেস্তোরাঁ মালিক নাসির উদ্দীন ও তার ছেলের ছুরিকাঘাতে এক নারীসহ দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় নাসির ও তার ছেলে কিশোর গ্যাং লিডার সোহাদসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহতদের ছেলে মোঃ রায়হান নূর রনি বাদী হয়ে ১৮ মে মামলাটি দায়ের করেন।
আহতরা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এরআগে শালিক রেস্তোরাঁর জিএম মুজিবুর রহমানকে অপহরণ করে তিন দিন ধরে আটকে রেখে নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায়, চেতনানাশক ইনজেকশন প্রয়োগ এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগে ওই নাসির ও তার স্ত্রী সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ঢাকা শেরেবাংলা নগর থানায় আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই বির্তকিত নাসির ও তার পরিবার একের পর এক অপরাধ সংগঠিত করার ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে চরম উদ্বেগ ও আতংকের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মে দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার বাহারছড়াস্থ পিটিআই স্কুলের সামনে অবস্থিত একটি ফ্ল্যাটে শাহিনা আক্তার (৪০) ও তার স্বামী মোঃ নূরকে উপযোপুরী ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।
এজাহারে বাদী মোঃ রায়হান নূর রনি অভিযোগ করেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে শালিক রেস্তোরাঁর মালিক নাসির উদ্দীনের দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারের সঙ্গে শত্রুতা করে আসছিল। ঘটনার দিন ১৫ মে রাতে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে শাহিনা আক্তারের ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে দরজা খুলতে বলে। দরজা খোলার পর আসামিরা অতর্কিত হামলা চালায়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, প্রধান আসামি সোহাদ (২০) ধারালো ছুরি দিয়ে শাহিনা আক্তারকে আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখম হন। এতে তার নাড়ি ভুড়িসহ শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসময় তাকে রক্ষা করতে গেলে মোঃ নূরকেও মারাত্মকভাবে ছুরিকাঘাত করে ও পিটিয়ে আহত করা হয়। অন্য আসামিরা লাঠি ও লোহার রড দিয়ে হামলায় অংশ নেয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহতদের প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থার অবনতি দেখে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে শাহিনা আক্তার সেখানে অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় আহতদের ছেলে মো. রায়হান নুর রনি বাদী হয়ে ১৮ মে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৪, প্যানেল কোড ১৮৮০ ধারায় মামলা। কক্সবাজার সদর মডেল থানার মামলা নং-৪৫ জিআর- ৩৩১। তাং-১৮.০৫.২০২৬ইং।
মামলার আসামিরা হলেন, শালিকের মালিক নাছির উদ্দিন (৪৮), তার ছেলে কিশোর গ্যাং লিডার সোহাদ (২০), জামাতা নাছের উদ্দিন ছিদ্দিক (৩৫), মেয়ে কারিশমা জান্নাত উর্মি (২৮) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী মামলার রেকর্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত আছে।
Leave a Reply