একরাম জুয়েল।।
কক্সবাজারের টেকনাফ থাইংখালীতে ইয়াবা লুটের ঘটনা প্রকাশ করায় মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে দুই যুবককে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মারধরের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়াতে বিষয়টি নিয়ে জেলার সর্বত্র প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় উঠে। সেই সাথে নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সচেতন মহল।
গত বুধবার (১৪ জুলাই) বিকাল ৫ টার দিকে থাইংখালী মগপাড়ার বিল হাকিমপাড়া এলাকার ৫নং ওয়ার্ডে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি ঘটনার ২ দিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
নির্যাতিতরা হলো-থাইংখালী মগপাড়ার বিল এলাকার আবুল কাসেমের ছেলে আবছার (২৫) ও শাহ আলমের ছেলে নয়ন (১৬)।
স্থানীয়রা জানান, গত দুই সপ্তাহ আগে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের পিছনের রাস্তা থেকে নির্যাতনকারী জাহাঙ্গীর ও আব্দুস সালাম এক অজ্ঞাত ইয়াবা ব্যবসায়ীর থেকে ১৪ হাজার পিস ইয়াবা কেড়ে নেয়। উক্ত ঘটনা নির্যাতিত দুই যুবক দেখে ফেলে এবং লোকমুখে বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় নির্যাতনকারীরা তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় পাশবিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের শেষ পর্যায়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের আপন বড় ভাই ও নির্যাতনকারী জাহাঙ্গীরের পিতা মুফিজ উদ্দিন চৌধুরী ঘটনাস্থলে আসে এবং অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকা আবছারের কপালে লাথি মারে। এক পর্যায়ে তাদের নেতৃত্বে নির্যাতিত অসহায় দুই যুবকের নিকট কোন অভিযোগ না করার মর্মে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। একই সাথে বিষয়টি নিয়ে কোন ধরনের অভিযোগ করলে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদেরও হুমকি দেয়।
থাইংখালী মগপাড়ার বিল (হাকিম পাড়া) ৫নং ওয়ার্ডের ইয়াবা ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) পিতা- মুফিজ উদ্দিন চৌধুরী ও আবদুস সালাম (৩৮), পিতা- মৃত নজু মিয়া মধ্যযুগীয় কায়দায়
রশি দিয়ে বেঁধে দুই যুবককে নির্যাতন করে।
এবিষয়ে উখিয়া থানার ওসি জানান, দুই যুবককে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেসবুকের মাধ্যমে দেখতে পাই। এবিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ জানায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, নির্যাতনকারী জাহাঙ্গীর স্থানীয় চেয়ারম্যানের আপন ভাতিজা হওয়ায় নির্যাতিত দুই যুবকের পরিবার আতংকে দিন পার করছে। বিষয়টি জেলার আইনশৃংখলা বাহিনী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করতে সচেতন মহল দাবী জানিয়েছেন।
Leave a Reply