সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে বিজিবির স্থাপনা নির্মাণ ঘিরে জমি বিরোধের অভিযোগ  কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গুলি শালিকের জিএম মুজিবকে অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ সিবিআইইউ শিক্ষার্থী মুজিবকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ কক্সবাজার শহরে ২ জনকে ছুরিকাঘাত কুমিল্লায় মাছের গাড়ি ডাকাতির চেষ্টাকালে আটক-২, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, খামারের মালিক পলাতক  সভাপতি রশিদের অত্যাচারে পিএমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু!  কোস্ট গার্ডের ড্রাইভার পরিচয়ে চাঁদাবাজি করছে ওমর ফারুক রামুতে পুলিশের অভিযানঃ ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ জিয়া গ্রেফতার 
সৌভাগ্য আমার এমন বাবার সন্তান হতে পেরে 

সৌভাগ্য আমার এমন বাবার সন্তান হতে পেরে 

ফাতেমা জাহান উজ্জ্বল।।
শেষ বারের মতো আমার বাসায় ২০২১ সালের মার্চের শেষের দিকে। সৌভাগ্য হয়েছিল আমার আব্বা-আম্মা দুজনই আমার বাসায় ছিলেন মাত্র দশ-বারো দিনের জন্য। এটাই আব্বার শেষ থাকা আমার বাসায়। শব – ই -বরাতের রাতটাও এখানে ছিলেন। আব্বা খুব বিরিয়ানি পছন্দ করতেন। ভাবছিলাম আব্বার জন্য বিরিয়ানি রান্না করবো। কিন্তু হঠাৎ আব্বার এমন অসুখ বেড়ে গেল রাতে আর কিছুই খাওয়া হলোনা। কয়েকদিন পর নজিব কক্সবাজার চলে যাবার সময় আব্বা-আম্মার সাথে দেখা করতে আসলে নজিবকে বলে আমাদের কখন নিয়ে যাবি? আমরা আর কয়দিন থাকবো এখানে? নজিব বললো দুই – তিন দিন পরেই নিয়ে যাবো। আমি বললাম আব্বা আপনিও আমার দাদার মতো। ছেলেদের বেশি ভালো বাসেন। মেয়েদের তেমন ভালো বাসেননা। একটু মুচকি হেসে বললেন, না আমি মেয়েদের ও ভালোবাসি। আর কয়দিনই বাঁচবো তাই ছেলের বাসায় থাকতে চাই। এই যাওয়া যে আব্বার শেষ যাওয়া হবে ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। যখন চট্টগ্রামে  নজিবের বাসা ছিলনা তখন মামলা- মোকদ্দমা বা চিকিৎসার জন্য আসলে আমার বাসায় ওঠতেন। মামলার আগের দিন রাতে পৌঁছেই আমাকে বলতেন আমার ভাসুর এডভোকেট লিয়াকত আলী নূর আর এডভোকেট সাজ্জাদ সাহেবকে খবর দিতে। তাঁরা আসলে তাদের মামলার সব কাগজপত্র, কথাবার্তা বুঝিয়ে দিয়ে তারপর একটু সস্তির নিঃশ্বাস ফেলতেন। তাও বাপ – মেয়ে সারারাত ঘুমাতাম না। আমি আব্বার পা টিপে দিতাম। ছোটখাটো গল্প করতাম। ফজরের আজানের পর আব্বা নামাজ পড়ে নাস্তা সেরে ধীরে ধীরে রেডি হতেন। আমি মোজা-জুতা পরিয়ে দিতাম এরপর আব্বা দুইহাত মেলে ধরতেন, আমি মুজিব কোটটা পরিয়ে দিতাম। তারপরে বলতেন একটু সেন্ট্ দে। আব্বা চাইতেন একাজগুলো তার আপনজনেরা করুক। কোর্টে যাওয়ার আগে প্রথমে আমানত শাহ হুজুরের দরগাহ গিয়ে জেয়ারত করতেন। আমার জানামতে কখনও আব্বা একাজটা মিস করতেন না। তারপর টেনশনে থাকতাম মোকদ্দমার কি হলো। দেখতাম খু্ব সহসাই আব্বা হাসিমুখে বাসায় ফিরতেন। হাত দুটো আবার মেলে ধরতেন, মুজিব কোটটা খুলে, পাঞ্জাবীটা খুলে দিতাম। তারপর বসে সামনের দিকেপা দুটো এগিয়ে দিতেন। এরপর আবারো জুতা – মোজা খুলে দেয়া। একাজে আমরা ভাই- বোনেরা সাচ্ছন্দ্যবোধ করতাম। আর আব্বার চোখেমুখে দেখতাম প্রশান্তির তৃপ্তি! এবার বলতেন আমাকে লেবু দিয়ে এককাপ রং চা দে, সাথে কেক বা ড্রাইকেক। তারপর খেতে খেতে কোর্টে কি হল, জেরা কি করল, স্বাক্ষীরা কি বলল, জর্জ সাহেব কি বললেন এসব শোনাতেন আর আমরা উৎসুক হয়ে এসব শুনতাম। লক্ষ্য করতাম ধীরে ধীরে আব্বার চেহারার মলিনতা কেটে যাচ্ছে। দুপুরের খাওয়া দাওয়া সেরে একটা প্রশান্তির ঘুম দিতেন। ঘুম থেকে ওঠে বিভিন্ন আত্মীয় – স্বজন আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের ফোন দিতেন। আমি আমার মেয়ের বাসায় আছি, ঠিকানা বলতেন, আসতে বলতেন। অনেকে আসতেন। অনেকের সাথে আব্বা নিজে গিয়েই দেখা করতেন। চট্টগ্রাম আসলে তৎকালীন মেয়র মরহুম আলহাজ্ব এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে অবশ্যই দেখ করতেন। মাঝে – মধ্যে বাসায় গিয়ে ভাতও খেয়ে আসতেন। এসে বলতেন, জানিস ওনার বাসায় গিয়ে কেউ না খেয়ে আসতে পারেনা। কিভাবে যে এগুলো সামলান? যেন লঙ্গরখানা খুলেছে। নিশ্চয়ই এর প্রতিদান তিনি আল্লাহর কাছে পাবেন, মানু্ষকে খাওয়ানো ভালো, আল্লাহ বরকত দেন।  এভাবে কয়েকটা দিন আব্বার সাথে আমাদের জমজমাট আনন্দে কেটে যেতো। ফাঁকে, ফাঁকে আব্বা পুলিপিঠে, সুজি দিয়ে লুচি, দুধ দিয়ে পাউরুটি, পাউরুটির টোস্ট্ এসব খেতে চাইতেন এবং খেতেন। যা হয়তো আর কোন দিনই খাওয়ানো  হবেনা। আমাদের সহজ সরল আব্বাকে নিয়ে আমাদের সব স্মৃতিই সাদামাটা কিন্তু অনেক আন্তরিক ও প্রাঞ্জল। যা সবার মনকে ছুঁয়ে যেতো। পরিবারের বাইরে আব্বা ছিলেন আরো অনেক বেশি ভালো লাগার ভালো বাসার অনন্য দৃষ্টান্ত। যা আমরা আগে এতটুকু বুঝতে পারিনি। আব্বার মৃত্যুর পর বিভিন্নজনের লেখনি, সাতকাহনের আলোচনা এবং নাগরিক শোকসভায় দলমত নির্বিশেষে সকলের উপস্হিতি ও স্মৃতিচারণে তাঁর প্রতি সকলের শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ আমাদের পরিবারকে ঋণী ও অণুপ্রাণিত করেছে। এমন বাবার সন্তান হতে পেরে আমরা গর্বিত। অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে। কিন্তু পারছিনা। আপনারা সকলে আমার আব্বা দলমত নির্বিশেষে সর্বজন শ্রদ্ধেয় মরহুম জনাব আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম সাহেবের জন্য দোয়া করবেন, মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। আর আমার আম্মার জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেনো আম্মাকে সুস্হতা ও দীর্ঘ হায়াত দান করেন। আমীন। আমাদের পরিবারের জন্য দোআ করবেন যাতে আমরা আব্বার সম্মান অক্ষুন্ন রাখতে পারি।
আব্বা আমার আদর্শ, আমার গর্ব, আমার অহংকার!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All rights reserved by © coxnewstoday
Desing & Developed BY MONTAKIM