মো.শাহাদত হোছাইন।।
কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের তিন কিমি জুড়ে শোভা পাচ্ছে লাল সবুজের পতাকা ও ফুলের মানচিত্রটি। স্বাধীনতা দিবসে এই ধরনের ভিন্ন আয়োজন যা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বাঁশের খুঁটিতে টাঙানো হয়েছে লাল-সবুজের পতাকা। মেরিন ড্রাইভ সড়কের একপাশে রেজুখাল থেকে ইনানী পর্যন্ত শোভা পাচ্ছে বাঁশের খুঁটিতে টাঙানো এসব সারি সারি জাতীয় পতাকা। সাগরের ঢেউ আছড়ে পড়ছে উপকূলে, ডিঙি নৌকা পড়ে আছে বালিয়াড়িতে। এসবের সামনেই নির্মাণ করা হয়েছে হাজারো ফুল দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র। মহান স্বাধীনতা দিবসে এ আয়োজন দেখে মুগ্ধ মেরিন ড্রাইভ ভ্রমণে আসা পর্যটকসহ স্থানীয়রা।
আবদুল হাই নামের এক পর্যটক বলেন, স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে পর্যটন স্পট ইনানীতে যাওয়ার পথে সারি সারি জাতীয় পতাকা দেখে গাড়ি থামিয়ে নামলাম। পতাকা এবং ফুল দিয়ে নির্মিত বাংলাদেশের মানচিত্র দেখলাম এবং ছবিও তুললাম। কে বা কারা এসব করেছে জানি না, তবে আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে।
সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. বাবুল আবছার জানান, মহান স্বাধীনতা দিবসে আমার এলাকার তরুণ শাহেদুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে কাজটি করেছে। তার এই মহতী কাজে সাড়া দিয়ে সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে র্যালি সহকারে মেরিন ড্রাইভ সড়কের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
এদিকে, নিজ উদ্যোগে লাল সবুজের পতাকা টাঙানো এবং মানচিত্র নির্মাণের কাজটি করেছেন সোনারপাড়ার স্থানীয় যুবক চিত্রশিল্পী শাহেদুল ইসলাম।
তিনি জানালেন, বীর শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং মানুষকে দেশপ্রেমে জাগ্রত করতেই তার এই উদ্যোগ। আমরা যারা নতুন প্রজন্ম তারা মহান মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। পাঠ্যপুস্তকে যতটুকু পড়ে জেনেছি কিছুটা স্বাধীনতা সম্পর্কে ক্ষুদ্র জ্ঞান অর্জন করেছি। তাই নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উজ্জীবিত করতে আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। এতে করে বীর শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং দেশের প্রতি ভালোবাসার আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। এছাড়া, মেরিন ড্রাইভে আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এসব দেখে আমাদের স্বাধীনতা দিবস সম্পর্কে জানতে পারবে।
Leave a Reply