মো.শাহাদত হোছাইন।।
কক্সবাজার সৈকতে ‘বদলে যাওয়া কক্সবাজার’ উৎসবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কক্সবাজার থেকে মিরসরাই পর্যন্ত সমুদ্র পাড় ঘেঁষে মেরিনড্রাইভ সড়ক তৈরি হবে। একটি কনভেনশন সেন্টারে তৈরি করা হবে, যাতে আন্তর্জাতিক মিটিংও কক্সবাজার করা যায়। কক্সবাজারের সব জায়গায় উন্নয়ন হবে, কোন অংশই বাদ যাবে না।
প্রধানমন্ত্রীর মূখ্যসচিব ডা. আহমদ কায়কাউসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল।
শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, কক্সবাজার, কুতুবদিয়া, সেন্টমার্টিন, মহেশখালী, সোনাদিয়া, উখিয়াসহ সব জায়গায় আমি গিয়েছি। পায়ে হেঁটে হেঁটে ১৯৯১ এর ঘুর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের বিভিন্নভাবে পুনর্বাসন করেছি। আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। তা আমাদের ধরে রাখতে কাজ করতে হবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ যেন গড়তে পারি, যেটা জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল। আজকের দিনে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আপনাদের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচনী ইশতিহার সামনে রেখে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন করে যাচ্ছি। শতভাগ বিদ্যুৎ দিয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘর আলোকিত করেছি। বার বার আমার উপর আঘাত হয়েছে, তারপরও আমি থেমে থাকিনি। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে, বঙ্গবন্ধুর
স্বপ্ন পুরণে কাজ করে যাবো, যতই বাঁধা আসুক। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা যেন অব্যহত রাখতে পারি, প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন সুন্দর করে জীবন জীবিকা করতে পারে সেই ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইনের কাজ হয়েছে। কক্সবাজার মানুষের জীবন জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তাদের যেন কোন দুঃখ না থাকে।
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম, সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিষ্ট জোন, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ, রামু বিকেএসপি, রেললাইন, খুরুশকুল আশ্রায়ন প্রকল্প ও আউটার স্টেডিয়াম সহ অনেক কাজ চলমান রয়েছে। সেই সাথে বিদেশি পর্যটকদের জন্য পৃথক ট্যুরিষ্ট জোন নির্মাণ করা হবে বলে জানান তিনি।
কক্সবাজারের সাফল্য তুলে ধরতে ‘উন্নয়নের নতুন জোয়ার, বদলে যাওয়া কক্সবাজার” স্লোগানে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপি অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে তুলে ধরা হবে বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা সংগ্রাম, ঘুরে দাঁড়ানো বাংলাদেশের ইতিহাস। জমকালো উৎসবটি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সাংসদবৃন্দ, জেলা প্রশাসন ও জেলা আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ ২০/৩০ হাজার নেতাকর্মী।
সৈকতে “উন্নয়নের নতুন জোয়ার, বদলে যাওয়া কক্সবাজার” উৎসবের এই অনুষ্ঠান স্থলে চারটি স্টল বসানো হয়। যেখানে বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ, প্রধানমন্ত্রী ও কক্সবাজারের সামগ্রিক উন্নয়নচিত্র তুলে ধরা হয়। এতে প্রথম পর্বের অনুষ্ঠান সকাল ১০টায় শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলে। এর মধ্যে রয়েছে, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, স্বাগত বক্তব্য, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ বিষয়ে ডকুমেন্টরি প্রদর্শন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অতিথিদের আগমনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনি ২০ মিনিট বক্তব্য রাখেন। এরপর রয়েছে স্থানীয় শিশু শিল্পীদের অংশগ্রহণে সমবেত জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনা। সৈকতের দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামাল, ভুমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহেদ আহসান রাসেল ও আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এড সিরাজুল মোস্তফা প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিনের স্বাগত বক্তব্যের পর ‘জোরশে চলো বাংলাদেশ’ বাংলাদেশ শীর্ষক প্রামান্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এরপর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে স্থানীয় উন্নয়নের উপর উপস্থাপনা। সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানিয়ে ‘ও জোনাকি’ গানের ভিডিওচিত্র চিত্রায়ন করা হয়। এরপর ৭টা ৫৫ মিনিটে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরপরই ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার’ গানের সাথে দলীয় নৃত্য ও সৈকতের আকাশ রাঙানো হয় হরেক রঙের আতশবাজিতে। এরপর মঞ্চে গান পরিবেশন শুরু করে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ফুয়াদ এন্ড ফ্রেন্ডস ও চিরকুট।
Leave a Reply