সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ন
মো.শাহাদত হোছাইন, সম্পাদক।।
কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন মেরিনড্রাইভ রোড়ের সাথে এবার চট্টগ্রাম থেকে মেরিনড্রাইভ রোড় তৈরি করে কক্সবাজারের সাথে সংযুক্ত করে দেওয়া হবে। দুরত্ব কমিয়ে মানুষের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করা হবে। একই সাথে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের উপকূল জুড়ে ঝাউগাছ রোপন করে সবুজ বেষ্টনি গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার বেলা ১১ টায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) বহুতল অফিস ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালী প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রিয় স্থানের মধ্যে কক্সবাজার একটি এবং কক্সবাজার ঘিরে বঙ্গবন্ধুর নানা স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিকমানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কক্সবাজারের আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দরের সাথে বৈশ্বিক যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। কক্সবাজারের পরিবেশ রক্ষা করে পর্যটন শিল্পের বিকাশ করতে হবে। দ্বীপাঞ্চলগুলোর পাশাপাশি জীব-বৈচিত্র্যও রক্ষা করতে হবে।
মহেশখালীর মেগা-প্রকল্প ও রেল লাইন কক্সবাজারের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে বলে অভিমত ব্যক্ত করে সরকার প্রধান বলেন, সমুদ্রসীমা বিজয় সুনীল অর্থনীতির বিকাশের জন্য মাইলফলক। এর সঠিক ব্যবহার করার আহবান জানান তিনি। টেকনাফের সাবরাং এ তৈরি করা হচ্ছে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিষ্ট জোন। কক্সবাজার সদরের অদুরে খুরুশকুলে আধুনিক শুটকী মাঠ তৈরি করা হবে। পর্যটন নগরী কক্সবাজারে অপরিকল্পিত অবকাঠামো না করতে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ভবন নির্মাণের তাগিদও দেন তিনি।
বুধবার (১৮মে) সকাল সাড়ে ১০ টায় কক্সবাজার শহরের বাহারছড়াস্থ মুক্তিযোদ্ধা গোলচত্বর মাঠপ অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি।
এতে বক্তব্য রাখেন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদুল্লাহ খন্দকার ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অব. লেফটেন্যান্ট কর্ণেল ফোরকান আহমেদ।
এদিকে, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেন। বহুতল অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ১১৪ কোটি ৮৪ লাখ ৪১ হাজার টাকা। কিন্তু কাজ শেষে টাকা সাশ্রয় হয় ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। তা সরকারি ফান্ডে ফেরত দেয়া হয়েছে। এছাড়াও, ২০১৭ সালে ২৭ মার্চ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ভূমি বরাদ্দ কমিটির সভায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বহুতল অফিস ভবন নির্মাণের জন্য ১ একর ২১ শতক জমি বরাদ্দ দেয়া হয়। গত ২০১৭ সালের ৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বহুতল অফিস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় কউক এর বহুতল অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। একই বছর ১৫ জুলাই হতে ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয় এবং ২০২১ সালের ডিসেম্বর প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে।
Leave a Reply