সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০১:২২ অপরাহ্ন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৪২তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপন করেছে কক্সবাজার জেলা মডেল কৃষকলীগ।
মঙ্গলবার (১৭মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় শহরের আলিরজাঁহালস্থ কৃষকলীগের অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ে জেলা সভাপতি আলহাজ্ব রশিদ আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা মডেল কৃষকলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সনজিত চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী।
আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কৃষকলীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য এম.এ হাসেম, জেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি মাস্টার বজল করিম, রফিক উদ্দিন, এড. মোস্তাক আহমদ, কৃষিবিদ সুজন কল্যাণ বড়ুয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজ মোরশেদ, কৃষি ও পণ্য বিষয়ক সম্পাদক আবদুল গফুর হেলালী, শহর কৃষকলীগের সভাপতি এরশাদুজ্জামান সুমন, সাধারণ সম্পাদক তামজিদুল ইসলাম মিন্টু, সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন মুকুল, শহরের সহ-সভাপতি ইব্রাহিম পিয়ারু, জয়নাল আবেদীন ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের হেলালী প্রমুখ।
কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। তাঁর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার মূল্যবোধ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়েছে। ১৯৭৫ সালে স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর প্রায় ছয় বছর বিদেশে নির্বাসিত ছিলেন জননেত্রী
শেখ হাসিনা। ১৯৮১ সালে আজকের দিনে দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্বাসিত জীবনের ইতি ঘটে।
আতিক উদ্দিন চৌধুরী আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালোরাতে কিছু বিপথগামী সেনা সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে। সেদিন বিদেশে অবস্থান করছিলেন বলেই বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে যায়। একদিকে বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে দলের অনেক নেতাকর্মীও দিগ্ভ্রান্ত হয়ে পড়ে, অন্যদিকে বিভক্ত হয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ। এমন পরিস্থিতিতে ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনাকে সভাপতি নির্বাচন করা হয়। এরপর দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন শেখ হাসিনা। তৎকালীন জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এরপরও ১৯৮১ সালের ১৭ মে ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে বিমানযোগে কলকাতা হয়ে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা।
তিনি আরো বলেন, দেশে ফিরে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয় লাভের মধ্যদিয়ে দীর্ঘ ২১বছর পর আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। এই পর্যন্ত ৪বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা। তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বল্পন্নোত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। এখন মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে রয়েছে বাংলাদেশ। এই অগ্রগতিকে ধরে রাখতে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে কৃষকলীগের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান তিনি।
এতে উপস্থিত ছিলেন, জেলা কৃষক লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সাংবাদিক শাহাদত হোছাইন, উপ-প্রচার সম্পাদক ফারুক আহমেদ, জেলা নেতা ইয়াকুব আলী ইমন, একরামুল হক জুয়েল, ওয়াহিদ আল-মারুফ এবং শহর কৃষকলীগের সহ-সভাপতি আবদুল লতিফ, ১নং ওয়ার্ড সভাপতি ওসমান গণি, ৪নং ওয়ার্ড সভাপতি মোজাহেরুল ইসলাম আনু, ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি দিদারুল করিম, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ৭নং ওয়ার্ড সভাপতি মোহাম্মদ মিয়া, ৯ নং ওয়ার্ড সভাপতি রশিদুল হাসান ও ১১ নং ওয়ার্ড সভাপতি পারভেছ মোশাররফ।
এর আগে সন্ধ্যা ৭ টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধুর আত্মার মাগফেরাত কামনায় ও শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
Leave a Reply