সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে বিজিবির স্থাপনা নির্মাণ ঘিরে জমি বিরোধের অভিযোগ  কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গুলি শালিকের জিএম মুজিবকে অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ সিবিআইইউ শিক্ষার্থী মুজিবকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ কক্সবাজার শহরে ২ জনকে ছুরিকাঘাত কুমিল্লায় মাছের গাড়ি ডাকাতির চেষ্টাকালে আটক-২, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, খামারের মালিক পলাতক  সভাপতি রশিদের অত্যাচারে পিএমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু!  কোস্ট গার্ডের ড্রাইভার পরিচয়ে চাঁদাবাজি করছে ওমর ফারুক রামুতে পুলিশের অভিযানঃ ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ জিয়া গ্রেফতার 
জাতীয় দলে খেলতে চান কক্সবাজারের নারী ফুটবলার সুমাইয়া

জাতীয় দলে খেলতে চান কক্সবাজারের নারী ফুটবলার সুমাইয়া

এহসান আল-কুতুবী।।

জাতীয় ফুটবল দলে খেলার স্বপ্ন বুনছেন
কক্সবাজার জেলা মহিলা ফুটবল দলের খেলোয়াড় কিশোরী সুমাইয়া আক্তার।

সুমাইয়া মহেশখালী কালারমারছড়া ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার সৈয়দ আলমের মেয়ে ও কালারমারছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।

কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থা সুত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও ক্রীড়া পরিদপ্তর আয়োজিত চলমান বঙ্গমাতা অনুর্ধ্ব-১৭ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে মহেশখালী উপজেলার হয়ে অংশগ্রহণ করেছে সুমাইয়া। উখিয়া উপজেলার সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত খেলে প্লেয়ার “অব দ্য ম্যাচ” নির্বাচিত হন এই ফরোয়ার্ড। ফুটবল টুর্নামেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ে তার নৈপুণ্য ছিল শীর্ষে। তিনি অল্প সময়ে নিজেকে পরিচিত করেছেন জেলার আনাচে-কানাচে। সপ্তম শ্রেণির এই অদম্য কিশোরী খেলে জেলা মহিলা ফুটবল দলে। তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন মা-বাবা, স্কুলের শিক্ষক, এলাকাবাসী ও ফুটবল বিশ্লেষকরা। তার নৈপুণ্যতার কারণে একাধিক ট্রফি, মেডেল ও প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার জমা হয় তার ঝুলিতে।

ফুটবলার সুমাইয়া বলেন, আমার জীবনটাই ফুটবলকে ঘিরে। খেয়ে না খেয়ে এই ফুটবল নিয়ে পড়ে আছি ছোটবেলা থেকে। আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে ফুটবল নিয়ে। জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন বুনছি। কিন্তু আমার জেলে বাবার পক্ষে আমার খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় খেলাধুলার সরঞ্জাম কিনতে হয়। সেগুলো কিনে দিতে বাবার অনেক কষ্ট হয়। তারপরও স্বপ্ন লালন করছি। সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা পেলে জাতীয় দলে খেলতে পারবো। জাতীয় দলে খেলে আমি দেশের সুনাম বয়ে আনতে চাই।

সুমাইয়ার বাবা সৈয়দ আলম বলেন, সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারলে চুলায় আগুন জ্বলে। দুঃখ-কষ্টে পার করছি দিন। এর মধ্যে সুমাইয়ার বুট, জার্সি ও খেলার সরঞ্জাম কিনে দেওয়া আমার সম্ভবের বাইরে। অনেকবার চাল না কিনে মেয়ের ফুটবলের সরঞ্জাম কিনে দিয়েছি। সে যেহেতু খুব ভালো খেলে, এলাকার সবাই চান খেলাধুলায় জড়িত রাখতে। কিন্তু আমি তো পারছি না। আমার দারিদ্র্যের কাছে হেরে যাচ্ছে সুমাইয়া।

সুমাইয়ার বাবা আরো বলেন, সুমাইয়ার খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে উপজেলা-জেলার হয়ে তাকে খেলতে নিয়ে যায়। জেলার বাইরেও খেলে পুরস্কার জিতে আসে আমার সুমাইয়া। সে দিন দিন যত ভালো খেলছে, তত তাকে নিয়ে আমার স্বপ্নটা বড় হচ্ছে। অভাব-অনাহারে থাকলেও মেয়ের প্রতিভার কাছে এসব তুচ্ছ মনে হয়। কিন্তু দিন শেষে সন্তানদের খরচের জন্য আটকে যাই আমি। আমার স্বপ্ন একদিন আমার মেয়ে জাতীয় দলে খেলবে। আমার সেই আশা আল্লাহ্ যেন পূরণ করেন।

কক্সবাজার জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, গরীবের ঘরে এমন প্রতিভাবান মেয়ে আল্লাহর অপূর্ব নিয়ামত। সুমাইয়ার খেলা দেখে মুগ্ধ না হয়ে কেউ থাকতে পারবে না। অসাধারণ খেলে মেয়েটা। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তার শৈল্পিক খেলা সত্যিই উপভোগ করার মতো। তার নিখুঁত খেলা দেখে আমরা তাকে জেলা মহিলা ফুটবল দলে সুপারিশ করি। ছোট্ট এই মেয়ে এখন সে জেলা টিমে খেলছে। জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেলে মেয়েটি দেশের নাম উজ্জ্বল করবে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, কক্সবাজার থেকে অনেক ভালো ভালো নারী খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার যে মুকুট পরেছে বাংলাদেশ, সেই সাফল্যের অন্যতম কারিগরও কক্সবাজারের মেয়ে সাহেদা আক্তার রিপা। তিনিও দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে গেছেন। ঠিক তেমনি সুমাইয়াকে নিয়েও আমরা স্বপ্ন দেখি। সংশ্লিষ্টদের নজরে সুমাইয়ার বিষয়টি আসলে হয়তো সেও জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাবে। অনেক কষ্ট করে সুমাইয়াদের সংসার চলে। জেলে বাবার পক্ষে আসলে সুমাইয়ার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা সুমাইয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বসে আলাপ করবো।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহিদ ইকবাল বলেন, সুমাইয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আছে। তার প্রতিভাকে মূল্যায়ন করবে জেলা প্রশাসন। বর্তমানে সে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে। টুর্নামেন্ট শেষে তার বিষয়টা জেলা প্রশাসন দেখবে।

গরীব পরিবারের সন্তান হলেও হাল ছাড়েননি সুমাইয়া। জাতীয় দলে খেলার এক বুক স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। নিয়মিত অনুশীলন ও খেলার মধ্যে যাচ্ছে তার সময়। বাফুফে যদি সুমাইয়ার মতো মফস্বলের নারী খেলোয়াড়দের নজরে আনে, তাহলে বাংলাদেশ ফুটবল বিশ্বে আরও এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন ফুটবল সংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গত, বঙ্গমাতা অনুর্ধ্ব-১৭ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আজ সোমবার কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া গোলচত্ত্বর মাঠে (মুক্তিযোদ্ধা মাঠে) অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজিত ফুটবল খেলায় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় চকরিয়া উপজেলা বালিকা দল ও মহেশখালী উপজেলা বালিকা দল। এতে চকরিয়া উপজেলা বালিকা দলকে ২-০ গোলে হায়িয়ে মহেশখালী উপজেলা বালিকা দল ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করে। খেলায় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন মহেশখালীর কিশোরী সুমাইয়া আক্তার ৷

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All rights reserved by © coxnewstoday
Desing & Developed BY MONTAKIM