সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন
মো.শাহাদত হোছাইন।।চলমান কক্সবাজার জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট গত মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। এতে বুধবার (১জুন) বিকালে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে রামু উপজেলা ফুটবল দলের সাথে মুখোমুখি হয় কুতুবদিয়া উপজেলা ফুটবল দল। খেলায় প্রথমার্ধে ২ গোলে কুতুবদিয়া উপজেলা দলকে হারিয়ে জয় লাভ করে রামু উপজেলা ফুটবল দল।
কুতুবদিয়া উপজেলা ফুটবল দলের এমন শোচনীয় পরাজয়ের নেপথ্যে রয়েছে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বিমল শীলের বৈষম্যমুলক আচরণ। তিনি কৃতি খেলোয়াড়দের টীমে ভিড়তে দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফেসবুকে জুড়ে তীব্র সমালোচনা চলছে কুতুবদিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের ভুমিকা নিয়ে বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক বিমল শীলকে ঘিরে। এই শোচনীয় পরাজয়ে তার পদত্যাগ দাবী করছেন কুতুবদিয়ার ক্রীড়ামোদীরা।
কুতুবদিয়া ক্রীড়া অঙ্গনকে তিনি অপমানিত করেছেন, এই পরাজয়ের বিষয়টি খুবই লজ্জাজনক বলেও দাবী করেন সকলে। একই সাথে, একজন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হয়ে বিমল পাল কিভাবে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হয়? এমন প্রশ্নও উঠেছে ক্রীড়া মহলে। তারকা খেলোয়াড়দের দলে সুযোগ না দিয়ে তিনি নবাগত ও অনভিজ্ঞ খেলোয়াড় দিয়ে টীম পরিচালনা করায় খেসারত দিতে হলো কুতুবদিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাকে, এই দায়ভার সম্পুর্নভাবে সাধারণ সম্পাদক বিমল শীলের উপর বর্তায়।
ক্রীড়ামোদীরা জানান, এক সময় ফুটবল, ভলিবলে জাতীয়, বিভাগীয় ও জেলা চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কুতুবদিয়া ক্রীড়া ক্ষেত্রে বেশ সুনাম ছিল। ক্রীড়া ক্ষেত্রে এ অর্জন যেন দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। তার পেছনে কুতুবদিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের স্বজনপ্রীতি, সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলছেন অনেক তারকা ফুটবলার। গতকাল ডিসি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে কুতুবদিয়া উপজেলা দল রামু উপজেলা দলের নিকট লজ্জাজনক হারের জন্য দায়ী কুতুবদিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার বিমল শীল। কুতুবদিয়া উপজেলার অভিজ্ঞ খেলোয়াড় যারা জাতীয় পর্যায়ে এবং প্রিমিয়ার লীগে স্বাধীনতা ক্রীড়া চক্রে, বসুন্ধরা কিংসের হয়ে খেলে অনেক সুনাম অর্জন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দলের অত্যান্ত পরিশ্রমী ডিপেন্ডার হাসান মুরাদ টিপু, চট্টগ্রাম আবুহানীর ডিফেন্ডার অত্যন্ত সুনামের সাথে খেলেন মামুনুল ইসলাম, দেশ-বিদেশে বিভিন্ন দলের হয়ে সফলতার সাথে গোলকিপার হিসেবে খেলে অত্যন্ত সুনাম অর্জন করেছেন আব্দু রশিদ বাদশা। এছাড়াও সাইমুন, মান্নান, ওমর ও শাহেদের মত অনেক পরিশ্রমী ও মেধাবী খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে চুনোপুটি দিয়ে দল সাজানোর জন্য কুতুবদিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাকে এমন খেসারত দিতে হলো বলে মনে করেন ফুটবল প্রেমীরা। টুর্ণামেন্টে ৪ জন বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটা থাকলেও দেখা মেলেনি কুতুবদিয়া দলের পক্ষে একজন খেলোয়াড়ও।
এ ব্যাপারে হাসান মুরাদ টিপু জানায়, কুতুবদিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার বিমল শীল অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কুতুবদিয়া উপজেলা ফুটবল দলে ভাল, পরিশ্রমী, মেধাবী খেলোয়াড়দের দলে সুযোগ না দিয়ে ছোট কঁচিকাচা-অনভিজ্ঞ খেলোয়াড় দিয়ে খেলে দ্বীপের সুনাম নষ্ট করেছে।
এ ব্যাপারে মামুনুল ইসলাম জানায়, কুতুবদিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার বিমল শীল দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে কৃতি ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের দলে না নিয়ে কিছু তার অনুগত ছোট অনভিজ্ঞ খেলোয়াড় দিয়ে খেলে দলের ভরাডুবি করেছে। আমরা কৃতি ও অভিজ্ঞ ফুটবলাররা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার বিমল শীলের অপসারন ও তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এছাড়া, একজন সরকারী চাকুরীজীবী কিভাবে ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হয়, এমন প্রশ্নও তোলেন এ কৃতি খেলোয়াড় আব্দু রশিদ বাদশা। তিনি এ পরাজয়ের জন্য মাষ্টার বিমল শীলের পদত্যাগ দাবী করেন।
এ ব্যাপারে কুতুবদিয়ার সাংবাদিক নেতা ক্রীড়ামোদী সাংবাদিক হুমায়ুন কবির ও সাংবাদিক শাহাদত হোছাইন তাদের ফেইজবুক পেইজে লিখেন, কক্সবাজার রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে ডিসি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে আজকের কুতুবদিয়া দলের খেলা দেখতে আসা হাজারো দর্শক হতাশ ও মনোক্ষুণ্ণ হয়ে গ্যালারি ছেড়েছে! এ অবস্থার জন্য দায়ভার কার! আজকের খেলায় মনে হয়েছে অভিভাবকহীন টীম! সমন্বয়হীনতা ও আন্তরিকতার বড়ই অভাব! এছাড়া, ৬ ইউনিয়ন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বাছাইকৃত খেলোয়াড়দের দলে রাখলে এমন হওয়ার কথা নয়! শুধু এলাকাভিত্তিক কয়েকজন খেলোয়াড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখাতে পুরো কুতুবদিয়াবাসীকে এই খেসারত দিতে হয়েছে। তারকা ফুটবলারদেরকে অবজ্ঞা আর নয়! জনপ্রতিনিধি-সুশীল সমাজের আন্তরিকতা থাকলে দীর্ঘদিনের সুনাম ধরে রাখা যাবে!
এ ব্যাপারে কুতুবদিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার বিমল শীল বলেন, যে টিমটা নিয়ে আমি ফুটবল খেলেছি, সেটা কুতুবদিয়ার সেরা টিম। রামু উপজেলা টিম নিঃসন্দেহে ভাল টীম, তাই তারা ভাল খেলেছে এবং জিতেছে। এখানে আমার ব্যর্থতার কিছু নেই। ভাল খেলোয়াড়দের দলে আনতে প্রচুর টাকা দরকার, আমাদের সেই সামর্থ্য নাই। তাই বিদেশি খেলোয়াড় ভাড়া আনতে পারি নাই। আগের চেয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা আমার হাত ধরে অনেক এগিয়ে গেছে। খেলায় দলের এই পরাজয়ের কারণে আমাকে পদত্যাগ করতে বললে, আমি করবো। এই পদ আমার দরকার নাই। আরো ভাল পদ আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
Leave a Reply