সিএনটি ডেস্ক।।
বৃটিশ শাসনামলে ১৮৫৪ সালে মহকুমা কক্সবাজার সদর হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন কক্সবাজারের মহকুমা প্রশাসক ও বিচারিক নিম্ন আদালত কার্য্যালয়গুলো উঁচু টিলা সদৃশ কাছারী পাহাড় নামের ভূমির উপরে প্রতিষ্ঠিত হয়। যেখানে আজকের জেলা প্রশাসন ও জজ আদালতসমূহ রয়েছে। প্রশাসনিক ও বিচারিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে দূর-দূরান্ত ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সদর কার্য্যালয়ে জনসাধারণকে আসতে হত। তখন নিয়মিত নামাজ আদায়ের মসজিদ বা রাত্রি যাপনের কোন হোটেল ও বোর্ডিং ইত্যাদি কোন ধরনের সুযোগ সুবিধা ছিল না। এতে আগত লোকজনের অনেক সমস্যা এবং প্রচুর ভোগান্তি পোহাতে হত।
কক্সবাজার পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত মধ্য-টেকপাড়া নিবাসী উজির আলী মুন্সী ছিলেন বিচারিক আদালতের আইনজীবী (মোঘল শাসনামলে ফার্সী ভাষায় আইনজীবীকে মুন্সী বলা হত। কালের বিবর্তনে এখন দলিল লিখককে মুন্সী বলা হয়)।
উজির আলী মুন্সী আগত লোকজনের নামাজ ও রাত্রিযাপনে সমস্যা ও ভোগান্তি উপলব্ধি করে জনগণের কল্যাণে একটি মসজিদ ও সংলগ্ন মুসাফিরখানা নিজব্যয়ে নির্মাণে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং এইজন্য ৬৫০ শতক জমি খরিদ করেন।
১৮৮৫ সালে সম্পূর্ণ নিজব্যয়ে নির্মাণ করেন মূল মসজিদ ভবন। যেখানে রয়েছে সুদৃশ্য মিনারে গম্বুজ সম্বলিত দুইতলা আজানখানা, নীচ তলায় ঈমাম মুয়াজ্জিনের আবাসকক্ষ, কুতুবখানা বা লাইব্রেরি কক্ষ, সূপেয় পানি ও অজুর জন্য স্বচ্ছ পানির প্রশস্ত পুকুর, আলাদা প্রস্রাব ও পায়খানা।
এছাড়া, জনসাধারণের বিনাব্যয়ে রাত্রি যাপনের মুসাফিরখানা ও রান্নাঘর ইত্যাদি। বর্তমানে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ নাম বলা হলেও শুরুতে স্হানীয় জনগণ বলতো কাছারি মসজিদ বা জুমা মসজিদ ইত্যাদি।
উজির আলী মুন্সী ছিলেন আমাদের পূর্বপুরুষ তথা আমার নানীর পিতা বা আমার আম্মাজানের নানা সাহেব। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপরায়ন দরবেশ প্রকৃতির লোক, উদার ও দানশীল ব্যক্তি ।
শিশু শিক্ষার জন্য তিনি মক্তব, মাদ্রাসা, মসজিদ ও কবরস্থান প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের মধ্য-টেকপাড়ায় “মুন্সীপাড়া” এলাকায় তার অধঃস্তন প্রজন্মের বংশধরেরা বসবাস করেন।
আসুন সবাই মিলে আন্তরিক দো’য়া করি : হে মহান প্রভু-উজির আলী মুন্সী’র সকল উত্তম কর্মসমূহের প্রতিদানে তাঁর ইহজীবনের ভূল ভ্রান্তি ক্ষমা করে জান্নাতুল ফিরদাউসের বাসিন্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
লেখকঃ আবদুল খালেক,পরিচালক,
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি।
Leave a Reply