সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে বিজিবির স্থাপনা নির্মাণ ঘিরে জমি বিরোধের অভিযোগ  কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গুলি শালিকের জিএম মুজিবকে অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ সিবিআইইউ শিক্ষার্থী মুজিবকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ কক্সবাজার শহরে ২ জনকে ছুরিকাঘাত কুমিল্লায় মাছের গাড়ি ডাকাতির চেষ্টাকালে আটক-২, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, খামারের মালিক পলাতক  সভাপতি রশিদের অত্যাচারে পিএমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু!  কোস্ট গার্ডের ড্রাইভার পরিচয়ে চাঁদাবাজি করছে ওমর ফারুক রামুতে পুলিশের অভিযানঃ ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ জিয়া গ্রেফতার 
আজ পদ্মাপারের সঙ্গে উৎসবে মাতবে পুরো দেশ

আজ পদ্মাপারের সঙ্গে উৎসবে মাতবে পুরো দেশ

 

কক্সনিউজ টুডে ডেস্ক।।
নানা চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে প্রমত্তা নদীর বুকে নির্মিত দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু মহাধুমধামে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামীকাল (২৫ জুন)। এদিন সকাল ১০টায় মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সরকারপ্রধান পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে জাজিরা প্রান্তে যাবেন এবং সেখানে উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন।
উদ্বোধনের পর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভার মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে সেতুর আদলেই। মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের বাংলাবাজার ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ঘাটে পদ্মা নদীর পাড়ে আয়োজন করা হচ্ছে এ জনসভা। প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের জন্য ১৫ একর জায়গাজুড়ে চলছে জনসভার প্রস্তুতি। নারীদের জন্য থাকছে আলাদা বসার ব্যবস্থা। বিশাল এই জনসভায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ যোগ দেবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, অনুষ্ঠানটি হবে একটি ঐতিহাসিক আয়োজন এবং এতে প্রায় ১০ লাখ লোক অংশ নেবে।
পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে আগামীকালের এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক দিনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে পুরো দেশ। স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের দিনে সারা দেশ উৎসব, আনন্দ, উল্লাসে মেতে উঠবে। এ জন্য বর্ণিল সাজে সেজেছে পুরো দেশ। জেলায় জেলায় সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ নানা আয়োজন করেছেন এই দিনে। ইতোমধ্যেই দেশের ৬৪টি জেলায় জেলা প্রশাসন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কাল পদ্মাপারে মূল উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সঙ্গে ৬৪ জেলাও সঙ্গী হবে। পদ্মা সেতু সংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো দেশ।আলোকসজ্জা করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক, সেতু ও সরকারি ভবনে।
পদ্মা সেতুর উদ্বোধন নিয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসছেন পদ্মাপারের মানুষ থেকে শুরু করে দক্ষিণের ২১ জেলার মানুষ। পথে-ঘাটে, চায়ের কাপে, আড্ডায়-আলোচনায় সেই আনন্দেরই অনুরণন। চোখেমুখে স্বপ্নপূরণের আলোকছটা।
প্রাণের সে উৎসবের ছটা পড়েছে সবখানে। সড়ক-মহাসড়ক, রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও অলিগলি ছেয়ে গেছে পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড আর তোরণে। যতদূর চোখ যায় যেন রঙের ছড়াছড়ি। বিভিন্ন স্থানে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। মরিচবাতিতে উজ্জ্বল সেতু, নৌকা আর জাতীয় পতাকার প্রতিকৃতি।
মাওয়া প্রান্তে সেতু উদ্বোধনের পর সেতু পেরিয়ে দক্ষিণ প্রান্তে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতুর আদলে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল নান্দনিক মঞ্চ। শুধু কি মঞ্চ, জনসভার পুরো এলাকাই যেন সাজে রঙিন।
নিরাপত্তাজনিত কারণে জনসভা মঞ্চ, পদ্মা সেতু ও এর ভায়াডাক্ট এবং আশপাশের এলাকায় বৃহস্পতিবার সাধারণ মানুষকে ভিড়তে দেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
কিন্তু উচ্ছ্বাসে ভাসা মানুষকে ঠেকাবে কে! যত কাছে যাওয়া যায়-সে নদী হয়ে বা সড়কে, মানুষ ছুটে এসেছেন, তুলেছেন ছবি। দূরে হলেও পদ্মাপারে তাই ছিল হাজারো পদচিহ্ন।
রাজধানী ঢাকাও সেজেছে দারুণ সাজে। সরকারি-বেসকারি প্রতিষ্ঠানসহ পুরো রাজধানীই সেজেছে ব্যানার, ফেস্টুন আর আলোকসজ্জায়। সেসব ব্যানার, ফেস্টুনে শোভা পাচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের বার্তা। রাজধানীর হাতিঝিলও সেজেছে দারুণ আলোকসজ্জা আর ব্যানার-ফেস্টুনে। হাতিরঝিলে ঘুরতে আসা মানুষজন এসবের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। কেউ কেউ সেলফি নিয়ে পোস্ট করছেন ফেসবুকে। কমেন্টে জানাচ্ছেন আনন্দ আর উচ্ছ্বাস।
বাঁধ ভাঙা উল্লাসে দক্ষিণবঙ্গের মানুষজন। তারা বলছেন, আমাদের যাদের পদ্মার ওপারে বাড়ি তারা জানি এই সেতু আমাদের জন্য কতটা আশীর্বাদের। কত মানুষের সারা জীবনের কষ্ট লাঘব হবে এই সেতুর কারণে। এই সেতুর উদ্বোধন চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে আমাদের কাছে।
৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু নির্মাণে কাজ ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর শুরু করে সরকার। মূল সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় মাওয়া প্রান্তে ৬ নম্বর পিলারের কাজ দিয়ে। ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির আয়ুষ্কাল ১০০ বছর।
সেতু চালুর পরপরই বদলে যাবে দেশের অর্থনীতি। পদ্মা সেতু হওয়ার ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক হারে শিল্পায়ন হবে এবং লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বিশেষ করে কৃষিতে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সেই সঙ্গে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ব্যাপক হারে পরিবর্তন সাধিত হবে। উৎপাদিত কৃষি পণ্য দ্রুত পরিবহণের ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে যাবে। এতে প্রতি বছর দারিদ্র্য নিরসন হবে ০ দশমিক ৮৪ ভাগ। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রায় ছয় কোটি মানুষের। একইসঙ্গে পরোক্ষভাবে পুরো দেশই এই পদ্মা সেতুর সুফল পাবে।
এক নজরে পদ্মা সেতু ঃ
পদ্মা সেতুর প্রকল্পের নাম: পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প।
পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য: ৬.১৫ কিলোমিট।
পদ্মা সেতুর প্রস্থ: ৭২ ফুট।
পদ্মা সেতুর স্প্যান সংখ্যা: ৪১ লেন।
পদ্মা সেতুর রেল লাইনের অবস্থান: পদ্মা সেতুর রেল লাইনের অবস্থান নিচতলায়।
পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্ট: ৩.১৮ কিলোমিট।
পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক: দুই প্রান্তে প্রায় ১৪ কিলোমিটার।
পদ্মা সেতুর প্রকল্প নদী শাসন: দুই পারে প্রায় ১২ কিলোমিটার।
পদ্মা সেতুর প্রকল্প ব্যয়: ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা।
পদ্মা সেতুর প্রকল্পের জনবল: প্রায় ৪ হাজার।
পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্ট পিলার: ৮১ টি।
পানির স্তর থেকে পদ্মা সেতুর উচ্চতা: ৬০ ফুট।
পদ্মা সেতুর পাইলিং গভীরতা: ৩৮৩ ফুট।
পদ্মা সেতুর প্রতিটি পিলারের জন্য পাইলিং: ৬ টি।
পদ্মা সেতুর মোট পাইলিং সংখ্যা: ২৬৪ টি।
পদ্মা সেতুতে যা যা থাকবে: বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং অপটিক্যাল ফাইবার লাইন।
পদ্মা সেতুর ধরন: দ্বিতল বিশিষ্ট কংক্রিট এবং স্টিল দ্বারা নির্মিত এই সেতু।
পদ্মা সেতুর পিলার কয়টি: ৪২ টি।
পদ্মা সেতুর প্রকল্পের চুক্তিবদ্ধ কম্পানি: চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড।
পদ্মা সেতুর নকশা: এইসিওএমের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় পরামর্শকদের নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়। আর তারাই হচ্ছে পদ্মা সেতুর নকশা পরামর্শদাতা।
পদ্মা সেতুর প্যানেলের সভাপতির নাম: অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী।
পদ্মা সেতুর স্প্যান বিশেষজ্ঞ দল সদস্য সংখ্যা: ১১ জন।
পদ্মা সেতুর কাজ: মূল সেতু, নদী শাসন, জাজিরা সংযোগকারী সড়ক, টোল প্লাজা.
পদ্মা সেতু নির্মাণের আনুষ্ঠানিক চুক্তি: ১৭ই জুন, ২০১৪ইং সালে বাংলাদেশ সরকার এবং চিনা চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All rights reserved by © coxnewstoday
Desing & Developed BY MONTAKIM