সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে বিজিবির স্থাপনা নির্মাণ ঘিরে জমি বিরোধের অভিযোগ  কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গুলি শালিকের জিএম মুজিবকে অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ সিবিআইইউ শিক্ষার্থী মুজিবকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ কক্সবাজার শহরে ২ জনকে ছুরিকাঘাত কুমিল্লায় মাছের গাড়ি ডাকাতির চেষ্টাকালে আটক-২, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, খামারের মালিক পলাতক  সভাপতি রশিদের অত্যাচারে পিএমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু!  কোস্ট গার্ডের ড্রাইভার পরিচয়ে চাঁদাবাজি করছে ওমর ফারুক রামুতে পুলিশের অভিযানঃ ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ জিয়া গ্রেফতার 
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গু

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গু

 

ইমরান জাহেদ।।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। এ রোগের প্রার্দুভাব দেখা দেওয়ার ফলে গত বছরের তুলনায় এবার রোগীর সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ১৮ জুলাই ২৪ ঘন্টায় উখিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা গেছে। আক্রান্তদের বেশীরভাগই রোহিঙ্গা শিবিরে এনজিওতে কমর্রত নারীপুরুষ। সেখানে কাজ করতে গিয়ে বেশীরভাগই আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

রোহিঙ্গা শিবিরে ঘনবসতি বেশি এবং থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় সেখানে পানি জমে থাকছে। এছাড়া অবস্থান ও পরিবেশগত কারণে রোহিঙ্গা শিবিরগুলো ঘিঞ্জি পরিবেশে অবস্থিত। প্রতিটি ঘরে ৮ থেকে ১০ জন সদস্য গাদাগাদি করে থাকে। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে মশা জন্মানোর সুযোগ বেশি। অপর দিকে মশার লার্ভা ও উড়ন্ত মশা মারার উদ্যোগও কম। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের মধ্যেও সচেতনতারও অভাব আছে।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ আকারে রূপ নিচ্ছে। এখন দৈনিক দেড়শ থেকে ২শ রোগী জ্বর নিয়ে ক্যাম্পের হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছে। আর কোন রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলেই কেবল ক্যাম্পের হাসপাতালগুলো থেকে জেলা সদর হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের চিকিৎসা সমন্বয়ক ডা. আবু ত্বোহা জানান, রোহিঙ্গা শিবিরে অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের হার অনেক। চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চারমাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের মোট সংখ্যা ছিল ২শ’র কম। আর মে মাস থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকে।

তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলতি বছরের ১ম চার মাসে ডেঙ্গু ধরা পড়ে ১৭২ জনের। এরপর মে মাস থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে আগে যেখানে প্রতিমাসের পরিসংখ্যান রাখা হতো, সেখানে এখন প্রতি সপ্তাহের পরিসংখ্যান রাখা হচ্ছে। ডা. আবু ত্বোহা জানান, জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আকার ধারন করেছে ডেঙ্গু। এখন প্রতি সপ্তাহে আক্রান্তের হার হাজার ছাড়িয়েছে।

এদিকে টেকনাফে এডিশ মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব দিন দিন বাড়ছে। গত দুই সপ্তাহে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ১২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে ৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এছাড়া নিমোনিয়া, সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত রোগির সংখ্যাও চোখে পড়ার মতো।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বর্তমানে পরিবেশগত কারণে টেকনাফে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ছে। কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল বলেন, দিন দিন ডেঙ্গু শনাক্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি আমাদের জন্য উদ্বেগের। আগাম সর্তকতামূলক ব্যবস্থা না নিলে হয়ত ব্যাপক আকারে এ রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই মশা ও মাছি নিধনে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ উদ্যোগ নিলে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব অনেকাংশে কমে যাবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও রোগ নিয়ন্ত্রক ডা. প্রণয় রুদ্র ডেঙ্গু রোগ নিবারণের উপায় হিসেবে বলেন, বাড়ির আশপাশ, ঝোপ-জঙ্গল, ড্রেন, নালা-নর্দমার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার রাখা। পাশাপাশি স্থির কোন কিছুতে পানি জমিয়ে না রাখা। বিশেষত এসব থেকেই মশার প্রজনন হয়ে থাকে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All rights reserved by © coxnewstoday
Desing & Developed BY MONTAKIM