সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে বিজিবির স্থাপনা নির্মাণ ঘিরে জমি বিরোধের অভিযোগ  কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গুলি শালিকের জিএম মুজিবকে অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ সিবিআইইউ শিক্ষার্থী মুজিবকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ কক্সবাজার শহরে ২ জনকে ছুরিকাঘাত কুমিল্লায় মাছের গাড়ি ডাকাতির চেষ্টাকালে আটক-২, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, খামারের মালিক পলাতক  সভাপতি রশিদের অত্যাচারে পিএমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু!  কোস্ট গার্ডের ড্রাইভার পরিচয়ে চাঁদাবাজি করছে ওমর ফারুক রামুতে পুলিশের অভিযানঃ ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ জিয়া গ্রেফতার 
স্বদেশে ফিরতে রোহিঙ্গাদের সমাবেশ

স্বদেশে ফিরতে রোহিঙ্গাদের সমাবেশ

বিশেষ প্রতিবেদক।।

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা আজ সাত বছরের মাথায় স্বদেশে ফেরার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সমাবেশ করেছেন লাখ লাখ রোহিঙ্গা। এতে রোহিঙ্গা নেতারা তাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, ভিটে মাটি ফেরত ও সম্মানের সাথে মিয়ানমারে ফেরত নিয়ে যাওয়ার আকুতি জানান। ভোর থেকে ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে উখিয়া ১৩ ও ১৮ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের খেলার মাঠে জড়ো হতে থাকে রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষ।

রোববার (২৫ আগষ্ট) সকাল থেকে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে লাখো শরণার্থী দ্রুত প্রত্যাবাসনের দাবিতে সমাবেশে দাবি উত্থাপন করেন। সেই ২৫ আগষ্টকে স্মরণ করতে কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে এই সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

সুত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ এবং ভয়াবহ নির্যাতনের মুখে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বনভূমিতে আশ্রয় নেয়। আগে থেকে আশ্রয় নেওয়া সাড়ে তিন লাখসহ বর্তমানে ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বর্তমানে কক্সবাজারের ৩৩টি আশ্রয় ক্যাম্পে বসবাস করছে। কবে তারা স্বদেশে ফিরবে তা এখনও অনিশ্চিত।

শরণার্থী বিষয়ক কর্মকর্তারা জানান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। কিন্তু ৭ বছর হয়ে গেলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের নেই কোন অগ্রগতি। মিয়ানমার সরকার প্রত্যাবাসন নামে নাটক চালাচ্ছে। বিশ্ব নেতারাও সব অভিযোগ শুনার পর নিরবতা পালন করছে। দিনের পর দিন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়ছে জন্মহার। সরকারি বা এনজিওর জরিপ মতে ১২ লাখ রোহিঙ্গা ধরা হলেও সাত বছরে বেড়েছে আরও কয়েক লাখ । তাই দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করা জরুরী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকদিন ধরেই রোহিঙ্গাদের তাদের জন্মভূমি মিয়ানমারে পাঠানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। এখনও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি ঝুলে আছে।

এদিকে, রোহিঙ্গাদের একটি অংশ মাদক পাচার, অপহরণ, মানবপাচার সহ নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে শরণার্থী আশ্রয় শিবিরগুলোতে প্রতিনিয়তই খুন-সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটছে। এটা স্থানীয় মানুষদের নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। নিজেদের দেশে ফেরত যাওয়ার দাবি জানিয়ে রোহিঙ্গারা প্রতিবছরই এদিনে তাদের ক্যাম্পে সমাবেশের আয়োজন করে থাকে। ২০১৯ সালের ২৫ অগাস্ট ক্যাম্পে প্রথম বড় সমাবেশ করা হয়, যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাস্টার মুহিবুল্লাহ। পরে তিনি মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ আরসার সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হন।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাস দমনের নামে ২০১৭ সালে সে দেশের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর জাতিগত নিধন চালালে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আসতে থাকে রোহিঙ্গারা। ওই বছরের ২৫ আগস্টের পর দু-তিন মাসের মধ্যেই উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয় সাড়ে সাত লাখের মতো রোহিঙ্গা। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তাদের খাদ্য সহায়তা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।

রোহিঙ্গা নেতা সৈয়দ উল্লাহ জানান, আমরা কবে দেশে ফিরতে পারবো জানা নেই। ২৫ আগষ্ট আমরা সাত বছর পূর্তি উপলক্ষে ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ করছি। এই সমাবেশের মাধ্যমে আমরা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিতে চাই, মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যাতে স্বদেশে ফিরতে পারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন সে উদ্যোগ নেয়।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) এর সভাপতি মোহাম্মদ জুবাইর বলেন, ছোট এই বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা দিন দিন বোঝা হয়ে যাচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অনুরোধ, যেকোনো উপায়ে মিয়ানমারকে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক এই রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো হোক।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার সামসুদ্দৌজা নয়ন বলেন, ২৫ আগষ্ট রোহিঙ্গা আগমনের সাত বছর পেরিয়ে আট বছরে পদার্পণ করেছে। ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের তাদের মতো করে সভা-সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে । এর অংশ হিসেবে রোহিঙ্গা শিশুদের চিত্রাঙ্কন থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা করছে। এছাড়াও, রাখাইনে এখন যুদ্ধ চলছে। সেখানকার পরিস্থিতি খুব খারাপ। ওখানকার যুদ্ধের গোলাবারুদের শব্দে এপারের মানুষ পর্যন্ত ভয়ে তটস্থ। কবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হবে সে তথ্য আমার কাছে নেই। তবে নতুন করে যাতে আর কোনও রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে সীমান্তে বিজিবি শক্ত অবস্থানে আছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All rights reserved by © coxnewstoday
Desing & Developed BY MONTAKIM