সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন
কাজল কান্তি দে।।
ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিনেও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকে ভরপুর। প্রাণ ফিরে পেয়েছে এই সৈকত। পর্যটক আসতে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা পর্যটক আসায় পুরোদমে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। তবে, হোটেল মোটেল অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও পর্যটক হয়রানীর ঘটনাও অহরহ ঘটছে। প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় ক্ষুদ্ধ পর্যটকরা।
দেশের মানুষের বেড়ানোর পছন্দের জায়গা বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। বিশেষ দিন ও টানা ছুটিতে এখানকার পাহাড়-সমুদ্র, নদী ও ঝরনা দেখতে ভিড় করেন পর্যটকেরা। ঈদের দিন সোমবার থেকে পর্যটকেরা কক্সবাজার মুখী হয়েছেন।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের দিন থেকে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো খুলেছে। মঙ্গলবার থেকে অধিকাংশ দোকানপাটও খুলেছে। বুধবার সকাল থেকে সমুদ্র সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণি পয়েন্ট পর্যটক নামতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকও বাড়তে থাকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন বয়সের মানুষ সাগরের নোনাজলে গোসলে নেমেছেন। কেউ সৈকতে ঘোড়ায় চড়ে সমুদ্র দর্শন করছেন, কেউ আবার ওয়াটার বাইক ও বিচ বাইকে সৈকত দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। আবার কেউ কিটকটে (চেয়ার-ছাতা) গা এলিয়ে দিগন্ত ছোঁয়া নীল জলরাশিতে মজে আছেন। কেউ কেউ বালুচরে দাঁড়িয়ে প্রিয়জনদের এসব আনন্দঘন মুহূর্ত ক্যামেরা বন্দী রাখছেন।
শহরের বাইরে পর্যটকেরা কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, পাটুয়ারটেক ও টেকনাফ সৈকতে ছুটে বেড়াচ্ছে। এই সড়কে সমুদ্র সৈকত ছাড়াও আছে পাহাড়-ঝরনা, প্রাকৃতিক গুহা ও নানা দর্শনীয় স্থান। এ ছাড়া সাগরদ্বীপ মহেশখালী ও সোনাদিয়া, রামু বৌদ্ধ বিহার, চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ও নিভৃতে নিসর্গে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে।
সিলেট থেকে আসা আনোয়ার দম্পতি জানালেন, অন্যান্য বছরে তুলনায় এবছর হোটেল রুমের দাম অতিরিক্ত রাখা হচ্ছে। দেড় হাজার টাকা রুম নেওয়া হচ্ছে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা।
টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন,’ পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। পর্যটকদের চাপ সামলাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত রুম ভাড়া আদায় সহ পর্যটক হয়রানী রোধে তৎপর রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশ।
Leave a Reply