কক্সবাজারের টেকনাফে একটি ফলজ বাগানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের ফাঁদে পড়ে ‘শক খেয়ে’ এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে পোস্ট মর্টেমের জন্য নিয়ে গেলেও নিহতের পরিবারের দাবী পূর্ব শত্রুতার জেরধরে এই কিশোরকে খুন করা হয়েছে।
১৭ জুলাই (শনিবার) সকাল ১১টার দিকে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ১৬ জুলাই নিহত শুক্কুর আহমদ বাড়ির পাশে রাত ৮টার দিকে চাচাতো ভাইয়ের দোকানে আড্ডা দিয়েছিল। সেখানে কিছুক্ষণ বসার পর দোকান থেকে চলে যায়। এরপর রাত যখন গভীর হতে থাকে তখনো ছেলে বাড়িতে না ফেরায় মা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে খুঁজতে থাকে। না পেয়ে হতাশ হয়ে গভীর রাতে মা-বাবা বাড়ি ফিরে আসে। সকালে পাশের বাড়ির মাহমুদা খাতুন নামে এক মেয়ে গরু নিয়ে যাওয়ার সময় বাগানের মালিক জাহেদকে বৈদ্যুতিক তাঁর সহ বাগানে দেখতে পায়। তখন সে কৌশলে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা চালায়। কিছুক্ষণ পর এলাকার নুর বেগম পাঁটি ধুঁতে জাহেদ হোসেনের বাগানের পশ্চিম বিলে গেলে হাঁটু পানিতে কি যেন দেখতে পায়। তখন সামনে এগিয়ে গিয়ে নুরবেগম শুক্কুৃরের মৃতদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার করে মাকে জানায়। তখন মা এসে ছেলের লাশ দেখতে পায়। এরপর কান্নাকাটি শুরু হয় এবং থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।
বাগানের মালিক টেকনাফ সদর ইউপির দক্ষিণ লেঙ্গুরবিলের মৃত নজু মিয়ার পুত্র জাহেদ হোছনের বলে জানান এলাকাবাসী।
নিহতের মায়ের অভিযোগ, উক্ত জাহেদের সাথে এলাকাবাসীর তেমন সুসম্পর্ক নেই। সে উগ্র স্বভাবের। ফলজ বাগানের ফল রক্ষার নামে পুরো বাগান জুড়ে বিদ্যুতের শক দিয়ে রাখে। এতে বড় দূঘর্টনায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া জানান, সকালের দিকে পুলিশ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট একজন যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অবগত হয়েছি।
টেকনাফ মডেল থানার এসআই আবু সাঈদ জানান, শুক্কুর আহমদের মৃতদেহ উদ্ধার করে পোস্ট মর্টেমের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
Leave a Reply