মো.শাহাদত হোছাইন।।
অবেশেষে দীর্ঘ সাড়ে ৪ মাস পর ১৯ আগস্ট থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়া হচ্ছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। সেজন্য আগত অতিথি ও পর্যটক সংশ্লিষ্ঠ সকলের মানতে হবে বেশকিছু শর্ত। তবুও পর্যটন খোলায় নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন সংশ্লিষ্ঠরা।
কক্সবাজরের পর্যটন সংশ্লিষ্ঠরা জানায়, সমুদ্র এখন বড্ড নিঃসঙ্গ। এখানে নেই জীবনের কোলাহল। নেই সমুদ্র স্নানের উচ্ছাস। যে সমুদ্রকে ঘিরে জীবনের এত আয়োজন করোনাকালীন সংগ্রামে সাড়ে ৪ মাস ধরে স্তব্দ সেই সমুদ্র সৈকত। গত ১ এপ্রিল থেকে একটানা কক্সবাজার জেলার পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ১৯ আগস্ট থেকে পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র চালু রাখা হবে। তবে ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক আদেশে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিধিনিষেধ আর প্রায় থাকল না। ফলে সমুদ্র শহর আবারো পর্যটকের কোলাহলে মুখরিত হবে। সাড়ে ৪ মাসের ক্ষত কাটিয়ে ঘুরে দাড়াবে কক্সবাজার পর্যটন শিল্প এমন আশায় বুক বাঁধছে সংশ্লিষ্ঠরা।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার বলেন, সাড়ে ৪ মাস লকডাউনের বেড়াজালে বন্দী থাকায় কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা বাধ্য হয়ে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মচারীদের ছাটাই করেছি। এই ক্ষতি পোষাতে সময় লাগবে। তবুও ১৯ আগষ্ট থেকে যেহেতু পর্যটন খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে আমাদের চেষ্টা থাকবে ক্ষত দ্রুত সারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর। প্রতি বছর ঈদ-পরবর্তী সময়ে পর্যটকদের ভীড় থাকলেও গত দুই ঈদে করোনা রোধে লকডাউনের কারণে বন্ধ ছিল সব ধরনের পর্যটনকেন্দ্র। ফলে পর্যটন-সংশ্লিষ্টরা প্রতিনিয়ত গুনছেন লোকসান।
এ বিষয়ে কক্সবাজার হোটেল মোটেল অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ কলিম বলেন, করোনাকালে যে ক্ষতি কক্সবাজারের পযর্টনের হয়েছে তা অপূরনীয়। বিশেষ করে শ্রমজীবিদের। ১৯ আগস্ট থেকে পযর্টন খোলায় এই সেক্টরের সকলেই এখন স্বপ্ন বুনছে, দেখছে আশার আলো। আবারো অতিথিদের কোলাহলে মুখরিত হবে সমুদ্র শহর এমন প্রত্যাশায় সকলের।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) মো. আবু সুফিয়ান বলেন, প্রজ্ঞাপনের শর্ত মেনেই ১৯ আগস্ট থেকে খুলে দেয়া হবে পর্যটন। তবে সেক্ষেত্রে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের অর্ধেক আসন ভাড়া দিতে হবে সংশ্লিষ্ঠদের। মানতে হবে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি।এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জাতীয় শোক দিবসের কক্সবাজারে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকেই সকলকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেয়া হবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: মামুনুর রশিদ বলেন, পর্যটন খুলে দেয়ার পর কোন প্রতিষ্ঠান যদি শর্ত না মানে কিংবা স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হয় তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply