সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন
বার্তা পরিবেশক।।
কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের সর্বাধিক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও মগনামার সাবেক চেয়ারম্যান, মজলুম জননেতা মো: ইউনুচ চৌধুরীর চেয়ারম্যান পদের মনোনয়ন পত্র গত ৪ নভেম্বর পেকুয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও মগনামা রির্টানিং অফিসারের কার্যালয়ে যাচাই-বাচাইয়ে বৈধ ঘোষনা করা হলেও গতকাল ৯ নভেম্বর সম্পূর্নভাবে অন্যায়ভাবে কক্সবাজার জেলার নির্বাচন অফিসার প্রতিপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মো: ইউনুচ চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়। প্রতীক বরাদ্দের তিনদিন পূর্বে প্রতিপক্ষের প্রভাবশালী প্রার্থীর কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ইউনুচ চৌধুরীর চেয়ারম্যান পদের মনোনয়নপত্র জেলা নির্বাচন অফিসার বাতিল করেছে মর্মে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে অভিযোগ করেছেন ইউনুচ চৌধুরীর স্ত্রী জন্নাতুল ফেরদৌস।
লিখিত বক্তব্যে মগনামার জনপ্রিয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো: ইউনুচ চৌধুরীর স্ত্রী জন্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করে বলেন, একটি ষড়ন্ত্রমূলক মামলায় গত বেশ কিছু দিন ধরে তার স্বামী কক্সবাজার কারাগারে রয়েছে। এর মধ্যে ইউপি নির্বাচন তফশীল ঘোষনা হয়। ঘোষিত তফশীল মতে, চলতি মাসের ২৮ নভেম্বর মগনামা ইউপি নির্বাচন অনুষ্টিত হবে। তার স্বামী কারাগারে থাকলেও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পেকুয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় থেকে চেয়ারম্যান পদের মনোয়ন ফরম সংগ্রহ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মনোনয়ন ফরমে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর তার স্বামী মনোনয়ন ফরমে স্বাক্ষর করে কর্তৃপক্ষের প্রত্যায়ন স্বাক্ষরসহ তফশীল মতে যথাসময়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে মনোনয়ন ফরম জমা প্রদান করা হয়। এবং গত ২ নভেম্বর মগনামা ইউনিয়নের প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম উপজেলা নির্বাচন অফিসে যাচাই-বাচাই সম্পন্ন হয়। উপজেলা নির্বাচন অফিসে যাচাই-বাচাইকালে মগনামার সর্বাধিক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: ইউনুচ চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিলের জন্য লিখিত অভিযোগ করেন মগনামার চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিমের মাসিক বেতনভূক্ত কর্মচারী চেয়ারম্যান পদে ডামী প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন। সেদিন উপজেলা নির্বাচন অফিসে র্দীঘ শুনানী শেষে সকল কাগজপত্র যথাযথভাবে পাওয়া যাওয়ায় মো: ইউনুচ চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষনা করেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো: রোজাউল করিম। সেই সাথে বিতর্কিত চেয়ারম্যান ওয়াসিমের কর্মচারী গিয়াস উদ্দিনের দায়েরকৃত অভিযোগটি খারিজ হয়ে যায়।
ইউনুচ চৌধুরীর স্ত্রী জন্নাতুল ফেরদৌস আরো জানান, পেকুয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে তার স্বামী মগনামার জনপ্রিয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনুচ চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধ হলেও তাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিতে মগনামার বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াসিম তার কর্মচারী ও ডামী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী গিয়াস উদ্দিনকে বাদী বানিয়ে গত ৭ নভেম্বর ইউনুচ চৌধুরীর মনোনয়ন পত্র বাতিলের জন্য কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিসার বরাবরে আবারো আপীল আবেদন দায়ের করেন। এরপর উক্ত আপীল শুনানীর জন্য গত ৯ নভেম্বর দিনক্ষণ নির্ধারণ করেন জেলা নির্বাচন অফিসার। এরমধ্যেই মগনামায় ওয়াসিম বাহিনীর হাতে অসংখ্যবার অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার ইউনুচ চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করানো জন্য ব্যাপক দৌঁড়ঝাপ শুরু করে দেন চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিমসহ তার কর্মচারী গিয়াস উদ্দিন।
মগনামার চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনুচ চৌধুরীর স্ত্রী গণমাধ্যম কর্মীদের আরো জানান, কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিসার মগনামার চেয়ারম্যান ওয়াসিমের কর্মচারী ও ডামী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের কাছ থেকে মোটা অংকে ম্যানেজ হয়ে অনিয়ম-দূর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করে সম্পূর্ন অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্যভাবে মগনামার জনপ্রিয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইউনুচ চৌধুরীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করে দেয়। অথচ পেকুয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও মগনামা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গত ৪ নভেম্বর চেয়ারম্যান পদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাচাইয়ে সকল কাগজপত্র সঠিক থাকায় বৈধ ঘোষনা করা হয়। উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়ন পত্র বৈধ হবার তিন দিন পর সেটি আবার জেলা নির্বাচন অফিসার কার্যালয়ে বাতিল হয় কোন আইনে? কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিসার প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকে ম্যানেজ হয়ে তার স্বামীর বৈধ মনোনয়ন পত্র বাতিল করে বর্তমান সরকারের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।
ইউনুচ চৌধুরীর স্ত্রী অবিলম্বে কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিসে কর্মরত দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রæত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন এবং তার স্বামীর মনোনয়নপত্র বৈধ করণে সরকারের কাছে জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Leave a Reply