কক্সবাজারের কুতুবদিয়া সৈকতে ভেসে আসা মরা গরুগুলো ৪ দিন পর অবশেষে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
শনিবার (৩ জুলাই) বিকালে কুতুবদিয়া
সৈকতের দক্ষিণ ধুরং বাতিঘর এলাকায় এসব মরা গরুগুলো পুঁতে ফেলা হয়।
স্থানীয়রা জানান, কুতুবদিয়ার সৈকতের দক্ষিণ ধুরং বাতিঘর এলাকায় ৯ টি মরা গরু চোখে পড়েছে। এছাড়া আরো অসংখ্য গরু পানিতে ভেসে যেতে দেখেছেন তারা। গেল বুধবার বিকেলে ভাটার সময় এসব মরা গরু সৈকতে আটকে যায়, যা দেখতে উৎসুক মানুষেরা ভীড় জমায়। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের নজরে আসে।
কুতুবদিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য হিরু চৌধুরী কুতুবদিয়া সৈকতে অসংখ্য মরা গরু ভেসে আসার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান। একই সাথে ভেসে আসা মরা গরুগুলো পুঁতে ফেলতে কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ফেসবুকে লাইভ দেন। মরা গরুগুলোর দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ দুষিত হচ্ছে বলে দাবী করে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এদিকে, পরিবেশবাদী সংগঠন এনভায়রনমেন্ট পিপলস এর প্রধান নির্বাহী সাংবাদিক রাশেদুল মজিদ জানান, দূর্গন্ধ ও দূষণ রোধে দ্রুত এসব ভেসে আসা মরা গরুগুলো সরিয়ে নেয়া উচিত। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন এসব মরা গরু সরিয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলে দায়িত্ব পালন করতে পারে। এতে পরিবেশ দুর্গন্ধ মুক্ত হবে। নতুবা এসব দুর্গন্ধ মানুষের পেঠে গেলে বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে।
দক্ষিণ ধুরং ইউনিয়নের মেম্বার মো.হোছাইন জানান, মরা গরুগুলো ৪ দিন আগে সৈকতে ভেসে এসেছে। এগুলোর কারণে সৈকতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশে স্কেভেটর দিয়ে এগুলো সৈকতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
কুতুবদিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. লেলিন দে জানান, মায়ানমার থেকে চোরা কারবারীরা গরুগুলো এনেছিল। আইনশৃংখলা বাহিনীর চোখে পড়ায় হয়ত গরুগুলো পানিতে ফেলে দেয় এসব চোরাকারবারী। এগুলো সাগরের পানিতে করে ভেসে এসে কুতুবদিয়া সৈকতে আটকে যায়।
কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুরের জামান চৌধুরী জানান, ভেসে আসা মরা গরুগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার আগে পুঁতে ফেলতে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন মতে বীচের সৌন্দর্য নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।
উল্লেখ্য, পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয়দের দাবীর মুখে কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে স্থানীয় চেয়ারম্যান স্কেভেটর দিয়ে এসব মরা গরু সৈকতে পুঁতে ফেলতে বাধ্য হয়।
Leave a Reply