সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ন
মো.শাহাদত হোছাইন।।
কক্সবাজারের টেকনাফ পৌর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল আগামীকাল রোববার (২৪ জুলাই) টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন উখিয়া-টেকনাফ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি জেলা আওয়ামীলীগ নেতা রাজা শাহ আলম। ইতোমধ্যে সম্মেলন ও কাউন্সিল সফল করতে সকল ধরনের আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দলীয় নেতা কর্মীরা জানিয়েছেন, সভাপতি পদে ৫ জন প্রার্থীতা করবেন। তারা হলেন, সাবেক সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহমান বদি, পৌর আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর আবু হারেছ ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুদ্দীন খালেদ, পৌর আওয়ামী লীগের সি. সহ-সভাপতি ইউছুপ মনো।
এছাড়া, সাধারণ সম্পাদক পদে পৌর আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলম বাহাদুর ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন।
এছাড়া, শেষবারের মতো সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা কাউন্সিলরদের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে এবারের সম্মেলন বিগত সম্মেলন থেকে অনেকটা উত্তেজনাকর ও গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্মেলন নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে বইছে নতুন মেরু করণের হাওয়া। তাই সভাপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে চুলছেঁড়া বিশ্লেষণ। এর আগে ১৯ জুলাই সম্মেলন অনুষ্টিত হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে তা পিছিয়ে যায়। তবে এই পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে। যেকোন ভাবেই সভাপতি থাকতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতিকে দিয়ে সম্মেলন করার ব্যাপারে শুরুর দিকে জাবেদ ইকবাল চৌধুরীর আপত্তি থাকলেও পরবর্তী তার সম্মতিতেই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
সম্মেলন সুত্রে জানা গেছে, সম্মেলনে প্রধান অতিথি রাখা হয়েছে, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান। আর বিশেষ অতিথি রাখা হয়েছে – জেলা আওয়ামী লীগ নেতা রাজা শাহ আলম, ইউনুছ বাঙ্গালী, সাবেক সাংসদ আব্দুর রহমান বদি। আর এতে বিশেষ বক্তার বক্তব্য রাখবেন, আওয়ামীলীগ নেতা বদরুল হাসান মিল্কি।
এছাড়াও, পৌর আওয়ামী লীগের সি.সহ-সভাপতি ইউছুপ মনু’র সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখবেন- টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল বশর এবং উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাষ্টার জাহেদ হোসেন।
এদিকে, আব্দুর রহমান বদি দুর্নীতি মামলার সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বীতার সুযোগ হারাবে বলে কানাঘুষা চললেও যেহেতু সাজা স্থগিত করা হয়েছে সেহেতু তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে কোন বাঁধা নেই বলে জানিয়েছেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি রাজা শাহ আলম। তবে আব্দুর রহমান বদি প্রতিদ্বন্দ্বীতার বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে না চাইলেও দলীয় সূত্র বিষয়টি অনেকটা নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, আব্দুর রহমান বদি ও মো. আলম বাহাদুর একটি প্যানেল এবং জাবেদ ইকবাল, ইউছুপ মনো আবু হারেছ ও সাইফুদ্দীন খালেদ এবং জাহেদ হোসেন আরেকটি প্যানেল করে কাউন্সিল করবে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতা বলেন, সভাপতি পদে আপাততঃ ৫ জন মাঠে থাকলেও মূলতঃ এমপি বদি ও জাবেদ ইকবাল চৌধুরীর মধ্যে প্রতিযোগীতা হবে। এছাড়া, বিগত সময়ে আব্দুর রহমান বদি সংসদীয় রাজনীতিতে জড়িত থাকলেও স্থানীয়ভাবে দলীয় রাজনীতি থেকে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছেন তিনি। তাই বিষয়টি বুঝতে পেরে দলের হাল ধরতে জোরালো ভাবে মাঠে নেমেছেন।
তৃণমূল থেকে উঠে আসা জাবেদ ইকবাল চৌধুরীও কোন অংশে কম নয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় তিনিও অসংখ্য নেতা কর্মী সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং তৃণমূলে তার বেশ সমর্থন রয়েছে। তবে সপ্তাহ খানেক ধরে জাবেদ ইকবাল চৌধুরী অনেকটা আড়ালে থাকলেও এটাকে তার রাজনৈতিক কৌশল বলে ধারণা করছেন অনেকে।
জাবেদ ইকবাল চৌধুরী কোন বক্তব্য পাওয়া না গেলেও তবে তার ফেইসবুক টাইম লাইনে তিনি গঠনতন্ত্র না মেনে সম্মেলন করা হচ্ছে বলে ইংগিত দিয়েছেন। একইভাবে সাধারণ সম্পাদক মো. আলম বাহাদুর সম্মেলন নিয়ে কোন ধরনের বক্তব্য করতে অপারগতা জানান।
Leave a Reply