সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ন
লিটন কুতুবী।।
জনবান্ধব স্বাস্হ্য সুরক্ষা সরকার মা ও শিশু স্বাস্হ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি এনজিও, স্বায়ত্বশাসিত সংস্হা কাজ করে যাচ্ছে। সরকার স্বাস্হ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি ক্লিনিক স্হাপন করেন। তার পাশাপাশি শতভাগ স্বাস্হ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্হ্য মন্ত্রণালয় এবং বিদেশী অর্থায়নে এনজিও কতৃর্ক স্বাস্হ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তারই ধরাবাহিকতায় কুতুবদিয়া উপজেলার ধুরুং বাজার এলাকায় ১৯৯৭ সনে সূর্যের হাসি ক্লিনিক স্হাপন করে ঐ এনজিও। মা ও শিশু স্বাস্হ্য সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃগর্ভে চেকআপ, ল্যাব, ই,সি,আইসহ ১০ ধরণের স্বাস্হ্য সেবার কাজ করে যাচ্ছে বলে চকরিয়া শাখার ম্যানেজার ( কুতুবদিয়ার অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মামুনুল ইসলাম নিশ্চিত করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ এ ক্লিনিকে প্রতিটি বিভাগের জন্য ডাক্তার, ল্যাব,টেকনেসিয়ান,সিনিয়র স্বাস্হ্য পরিদর্শিকাসহ প্রত্যেক বিভাগে জনবল থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে জনবল না থাকার পরও স্বাস্হ্য সেবা না দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। প্রথম থেকেই সূর্যের হাসি ক্লিনিকের চিকিৎসার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সুনাম ছিল। এ সুনামের গন্ধে এখনও মহিলা রোগী ক্লিনিকে আসে। কিন্তু তাদের অব্যবস্হাপনায় দিন দিন রোগী বিমুখ হয়ে অন্যত্রে চলে যাচ্ছে।
কুতুবদিয়া উপকূলের ধুরুং বাজার সূর্যের হাসি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা মাজেদা বেগম নামের এক মাতৃত্ব রোগী স্বাস্হ্য সেবা নিতে এসে চেকআপের জন্য গেলে তাদের যথানিয়মে তিন’শ টাকা নিয়ে নেয়। ক্লনিকের অভ্যথনা টেবিলের হুসমিন আকতার মানি স্লিপ ধরে দিয়ে টাকা বুঝে নেন। কিন্তু তাদের ডাক্তার,নার্স, কিংবা স্বাস্হ্য পরিদর্শিকা দ্বারা টেকআপ না করে তারা নিজেরা চেকআপ করে পাঠিয়ে দেয়। যার ফলে তার উক্ত চিকিৎসা মনপুত না হওয়ায় কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্হ্য পরিদর্শিকা রেবেকা সোলতানার নিকট চেকআপ করেছেন। এ ধরণের অজানা অনেক মা ও শিশু স্বাস্হ্য সেবা নিতে গিয়ে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত রোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ধুরুং বাজার শাখা সূর্যের হাসি ক্লিনিকে সরেজমিনে গেলে দেখা যায় হ-য-ব-র-ল অবস্হা। ক্লিনিকের এডমিন শফিফুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি যথাযথ উত্তর দিতে পারেন নি। ঐ সময়ে উপস্হিত চকরিয়া শাখার ম্যানেজার মোহাম্মদ মামুনুল ইসলাম জানান, ডাক্তার, নার্স, স্বাস্হ্য পরিদর্শিকা, ল্যাব,টেকনেসিয়ানসহ গুরুত্বপূর্ন পদগুলো শুন্য রয়েছে। কিন্তু ডাক্তার, নার্স, স্বাস্হ্য পরিদর্শিকা, ল্যাব টেকনেসিয়ান, ইপিআই,জন্ম বিরতি করণ টিকা, ডিপো নাই। তারপরও যদি অজানা অবস্হায় কোন গর্ভবতী গিয়ে মহিলা চেকআপের জন্য যায় তার গুনতে হয় তিন’শ টাকা থেকে চার’শ টাকা। এরইমধ্যে গর্ভবতী গরীব অসহায় ডেলিভারির সময় সমস্যা দেখা দিলে পাশ্ববর্তী সূর্য়ের হাসি ক্লিনিকে ডেলিভারির জন্য নেয়া হলে নরমাল ডেলিভারি খরচ বাবদ চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। যদি তাদের সাধ্যের বাইরে চলে যায় তখন তাদের টাকা আদায় করে কক্সবাজার সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সূর্যের হাসি ক্লিনিকের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী স্হানীয় চেয়ারম্যান সভাপতি, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক,সমাজ সেবক,গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে পরিচালনা কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও বিগত কয়েক বছর ধরে উক্ত কমিটি নেই। যার ফলে তাদের যা ইচ্ছে তা করে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্হ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সূর্যের হাসি ক্লিনিকে নেই ডাক্তার, নেই স্বাস্হ্য পরিদর্শিকা, নেই নার্সিং ব্যবস্হা। চলছে মনগড়া, বিগত দেড় বছর ধরে উক্ত ক্লিনিকের কারো সাথে উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সের সাথে যোগাযোগ নেই। খবর পাওয়া গেছে অদক্ষতার কারণে ডেলিভারীর সময় অনেক শিশু মারা গেছে।
দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছৈয়দ আহমদের সাথে সূর্যের হাসি ক্লিনিকের বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, উক্ত ক্লিনিকে চিকিৎসার নাম দিয়ে গরীব দুঃখী মানুষের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ক্লিনিকের পরিচালনা কমিটি নেই বিগত দেড় বছর ধরে। পদাধিকার বলে স্হানীয় চেয়ারম্যান কমিটির সভাপতি। তাদের কমিটির কার্যকরিতা নেই বললে চলে। এসব অনিয়ম দূর্নীতির বিষয়ে ব্যবস্হা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি।
Leave a Reply