আজ বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) থেকে ৫০% কক্ষ বুকিংসহ শর্ত সাপেক্ষে হোটেল মোটেল খোলার অনুমতি দেন জেলা প্রশাসন। এর আগে সোমবার (২১ জুন) জেলা প্রশাসনের সভা থেকে এ ঘোষণাটি আসে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বিভিন্ন আসবাবপত্র ধুয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে। সাজানো হচ্ছে রিসিপশন। তবে বেশিরভাগ হোটেল, কটেজ খোলার লক্ষণ চোখে পড়েনি। সমুদ্রসৈকত বন্ধ রেখে শুধু আবাসিক হোটেল খোলা রাখার সিদ্ধান্তকে মানতে নারাজ কর্মরতরা। তারা বলছেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রেখে শুধু হোটেল খোলা রেখে লাভ কী? খালি হোটেলে কেউ কী ঘুমাতে আসবে?
এদিকে কক্সবাজারে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছিল স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা। অবশেষে তাদের দাবি, জীবন জীবিকা ও করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে হোটেল-মোটেল খোলার অনুমতি আসে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
হোটেল আমারি রিসোর্টের ম্যানেজার মনজুর আলম বলেন, সাগর পাড়সহ বিনোদন কেন্দ্রগুলো যদি খুলে দেয়া না হয় তাহলেতো এখানে পর্যটক আসবে না। পর্যটক না আসলে হোটেল খোলা-না খোলা সমান।
জিয়া গেস্ট ইনের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ২৪ জুন থেকে হোটেল খোলার বিষয়ে একটি নির্দেশনা পেয়েছি। তার আলোকে প্রস্তুতি চলছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে ফিরবে। এর আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজগুলো সেরে নিচ্ছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমরা হোটেল পরিচালনা করব। মাস্ক, স্যানিটাইজারসহ প্রয়োজনীয় সব কিছুই আমরা রেখেছি।
এদিকে হোটেল মোটেল খোলার সিদ্ধান্তে সচেতন মহলসহ অনেকের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করা গেছে। তাদের দাবী করোনার ঊর্ধ্বগতিতে হোটেল মোটেল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। এতে করোনা সংক্রমণের হার আরও বাড়তে পারে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আমিন আল পারভেজ বলেন, পর্যটন সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহের দাবির প্রেক্ষিতে শর্তসাপেক্ষে হোটেল মোটেল ও গেস্ট হাউজ খুলে দেয়া হয়েছে। তবে পর্যটন কেন্দ্রগুলো যথারীতি বন্ধ থাকবে।
তিনি আরও বলেন, হোটেল মোটেল কর্তৃপক্ষকে কিছু শর্ত বেধে দেয়া হয়েছে। সেসব পালনে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শর্ত ভাঙলে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
Leave a Reply