বিশেষ প্রতিবেদক।।
সন্তান সম্ভবা বধু জারিন তাসমিন মুন্নী করোনা পজিটিভ হয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।সন্তান ভূমিষ্ঠ করেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন করোনায় আক্রান্ত সেই মা। একটু বিলম্বিত কোভিড টেস্টের কারণে এরকম সর্বনাশ হয়েছে বলে মনে করেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
নিহত জারিন তাসমিন মুন্নী উখিয়া ক্লাসপাড়ার আবদুল লতিফের মাস্টারের মেয়ে ও খোন্দকার পাড়ার সিরাজুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে শাহাদত হোছাইন বিপু’র স্ত্রী।
শনিবার (১৭ জুলাই) ভোরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্তান প্রসবের পর তিনি মারা যান।
নিহতের পরিবার সুত্রে জানা গেছে, বিপুর সাথে মুন্নীর বিয়ে হয় গত বছর। অনার্সের ছাত্রী মুন্নী। স্বামী বিপু এনজিওতে চাকরি করে। সন্তান সম্ভবা মুন্নী করোনা পজিটিভ হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হঠাৎ তার অক্সিজেন লেভেল ডাউন হয়ে যায়। তার শারীরিক পরিস্থিতি ক্রমশঃ অবনতি হতে থাকলে ডাক্তাররা সিজার করে সন্তানের জীবন রক্ষা করে। কিন্তু রক্ষা করতে পারেনি মায়ের জীবন।
দৈনিক মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক
রাসেল চৌধুরী জানান, বন্ধু সোহেল খন্দকারের ছোট ভাই বিপুর সন্তান সম্ভবা স্ত্রী মুন্নী করোনা পজিটিভ হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। হঠাৎ তার অক্সিজেন লেভেল ডাউন হলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে ডাক্তাররা নিরুপায় হয়ে সিজার করে সন্তানের জীবন রক্ষা করতে বাধ্য হয়।সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানের মুখও দেখতে পারেনি হতভাগী ছোট বোন মুন্নী।গর্ভেরধন’র মুখ দেখার আগেই আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করেন ছোট বোন মুন্নী।
দৈনিক কালেরকন্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ ফেসবুকে লিখেছেন, মুন্নীর এমন ভয়াবহ অবস্থা ছিল যে, তাকে হাসপাতালে আনার সাথে সাথেই আইসিইউতে অক্সিজেনের উপর রাখতে হয়েছে। এমনকি ঘন্টায় ৮০ লিটার অক্সিজেন দিতে হয়েছে তাকে। অবস্থা যখন শেষের দিকে সাংবাদিক ফারুক আমাকে ফোন দেন। যিনি নিজেও তার শিশু সন্তান নিয়ে কোভিডে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন। গোটা পরিবারটি যেন এক অসহায় অবস্থার মধ্যে রয়েছে। ওদিকে জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকগন তাগিদ দিতে শুরু করেছেন মুন্নীর অবস্থা ভাল নয়। তারা আরো বলেন, সন্তান সিজার করে নিয়ে ফেলাই ভাল হবে। আমাদের পারস্পরিক আত্নীয়তার কারণে বিষয়টি নিয়ে উখিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী ও সাংবাদিক আবু তাহের ভাইয়ের সাথে শেয়ার করি। তারা দুইজনই আবার ডাক্তার পরিবার। দুইজনেরই মেয়ে আর জামাই ডাক্তার। তিনজনে মিলে গত মধ্যরাতে সন্তান সম্ভবা কোভিড আক্রান্ত তরুণীকে বাঁচানোর সে কি আকুতি। তার উপর সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার থাকায় অনেক ডাক্তারই ছুটিতে ছিলেন। কোভিড রোগী হওয়ায় হাসপাতালের ওটি’তে মুন্নীকে নিয়ে যাওয়াও ছিল রীতিমত ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও সবার অনুরোধে সেই মধ্যরাতের পর গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাঃ খাইরুন্নেসা মুন্নী হাসপাতালে এলেন। ততক্ষণে এনেস্থিসিয়ার দায়িত্বে থাকা ডাক্তারও এলেন। রোগী মুন্নীকে ওটি’তে নিয়ে যাওয়া হল। হাসপাতালের ডাক্তার নওশেদ রিয়াদ এবং ডাক্তার ইয়াসির আরাফাত থেকে যাদের বলা হয়েছে তারাও উদ্বিগ্ন। সবার এক কথা – মা আর সন্তান এক সাথে যেন চিরবিদায় না নেয়। এবার অপেক্ষার পালা। এক ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনের মাধ্যমে কোভিড রোগী প্রসব করলেন ফুটফুটে ছেলে শিশু। সেই শিশু দুনিয়াতে এসেছে ভাল ভালোই। মাও ততক্ষণে ভাল ছিলেন। কিন্তু নিষ্ঠুর মহামারি কোভিড-১৯ বলে কথা। আজ শনিবার সাত সকালেই কোভিড আক্রান্ত তরুণী বধু তার কলিজার টুকরো টিকে রেখে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। পৃথিবীতে যে মা শব্দ টির বিবরণের শেষ নেই, সেই মা ডাকটি শোনার আগেই করোনা হতভাগী মা কে শিশু সন্তানের বুক থেকে কেড়ে নিয়ে গেল। এই তরুণী মা’ র জন্য প্রভুর কাছে জান্নাত কামনা করছি। সেই সাথে শিশুটির জন্যও রইল শুভ কামনা। হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স এবং যারা কোভিড আক্রান্ত মাকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।
Leave a Reply