সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন
মোহাম্মদ রাসেল।।
কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ১নং ওয়ার্ডের পূর্ব কলাতলীস্থ চন্দ্রিমা হাউজিং সংলগ্ন বখতিয়ার ঘোনা এলাকায় কয়েকমাস আগে গঠন করা হয়েছে পাহাড়িকা সমাজ পরিচালনা কমিটি। এই সমাজের সভাপতি জয়নাল আবেদীন। তার নেতৃত্বে গেল সপ্তাহ দশ দিন ধরে চলছে দিনদুপুরে পাহাড় কাটা। আর তাতে খন্ড খন্ড করে প্লট তৈরি করে বিক্রি হচ্ছে প্রতিগন্ডা ৬০/৭০ হাজার টাকা করে। ইতোমধ্যে সেখানে তৈরি করা হয়েছে শতাধিক ঘর। এখনো পাহাড় কেটে জয়নালের নেতৃত্বে সেখানে ঘর তৈরি হচ্ছে দিনরাত।
জানা গেছে, কলাতলী চন্দ্রিমার ঘোনাস্থ বখতিয়ার ঘোনা এলাকায় সরকারি পাহাড়গুলো দখল ও বিক্রির প্রতিযোগিতা চলছে গত একবছর ধরে। এরপর চলছে পাহাড় কেটে স্থাপনা তৈরি। বর্তমানে বখতিয়ার ঘোনা এলাকায় ১৫টি স্থানে চলছে পাহাড় কর্তন।
এলাকাবাসীর দেয়া তথ্য মতে, বখতিয়ার ঘোনা এলাকায় পাহাড় কাটায় আরো যারা জড়িত, তারা হলেন, জয়নাল আবেদীন (৩৫) পিতা-আবদুল মন্নান, পাওয়ার হাউস এলাকার মনজুর (৪৮), নুনিয়াছড়ার মো জিয়াউল হক (৩০) পিতা-নুরুচ্ছফা মিস্ত্রী, আবদুল আহান (২৯) পিতা- আইয়ুব আলী, ফোরকান, জালাল, সোহেল (২৮) (নোয়াখালী), পিটিআই স্কুল এলাকার বাবুল (৩২), সাবের আহমদ (৬০), পিতা-আবুল হোসেন, শেখ ফয়েজ (৩৮), পিতা-আলী আকবর, জাহানারা বেগম (২৮), স্বামী নুর মোহাম্মদ সহ আরো অজ্ঞাত ৮/১০ জন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি পাহাড় দখল, কর্তন এবং বিভিন্ন অপরাধ সাথে জড়িত এই জয়নাল আবেদিন। সে খুচরা ইয়াবা বিক্রেতা বলেও জানান তারা। সমাজের এই সভাপতির বিরুদ্ধে কটেজ থেকে পতিতাসহ আটকের অভিযোগও রয়েছে। তাছাড়া, সমাজ কমিটি বলে যারা ব্যানার দিয়েছে তারা সবাই সরকারি পাহাড় কাটার সাথে জড়িত। সবাই পাহাড় কেটে ঘরও তৈরি করেছে। মূলত পাহাড় দখল ও কর্তন করার জন্য সমাজ কমিটির নাম ব্যবহার করে অপরাধ আড়াল করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের কোনো অভিযান বা নজরদারী না থাকায় দিন দিন সরকারি পাহাড় দখলের পর কর্তন চলছে বখতিয়ার ঘোনায়। এরমধ্যে অধিকাংশ রোহিঙ্গা নাগরিক। রয়েছে মোবাইল ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারি। কয়েকজন সৈকতে ক্যামরাম্যানের আড়ালে মাদক কারবারি ও ছিনতাইয়ে জড়িত রয়েছে।
পাহাড়িকা সমাজ কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদিন বলেন, এখানে সবাই গরীব মানুষ। পাহাড়ে থাকে। প্রায় ১৪০ থেকে ১৪৫ পরিবারের মতো রয়েছে। সবাই পাহাড় কেটে ঘর তৈরি করেছে। আমিও পাহাড় কেটে ঘর করেছি। বর্তমানে যারা পাহাড় কেটে ঘর করেছে সবাই বিভিন্ন জনের দখলে থাকা পাহাড় থেকে এক গন্ডা বা দুই গন্ডা করে কিনেছে।
এ ব্যাপারে সদর সহকারী কমিশনার ভুমি নু এমং মারমা বলেন, বর্তমানে জেলায় বন্যা পরিস্থিতির কারনে মানুষ যখন মানবিক কাজে ব্যস্ত। তখন সেখানে কিছু অসৎলোক পাহাড় কাটছে। এটা জঘন্য অপরাধ। এবিষয় নিয়ে দ্রুত আইন গত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের কলাতলী বিট অফিসার সোহেল রানা বলেন,পাহাড় কাটার খবর পেয়ে চন্দ্রিমার ঘোনাস্থ বখতিয়ার ঘোনা এলাকায় যাই। যে পাহাড় গুলো কাটা হয়েছে বা হচ্ছে সব সরকারি খাস খতিয়ানের। যা আমার এখতিয়ার বহির্ভুত।তারপর ও উচ্চ মহলের নির্দেশ পেলে তা বাস্তবায়ন করবো।
পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার কার্যালয়ের ইন্সপেক্টর মাহবুব ইসলাম বলেন, বখতিয়ার ঘোনা পাহাড় কাটার সংবাদে সেখানে টীম নিয়ে যাই। সব পাহাড়েরই বেহাল অবস্থা। সেখানে গেলেই পাহাড় কর্তনকারীরা পালিয়ে যায়। তারপরও জড়িতদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করেছি। সরকারি পাহাড় দখল ও কর্তনকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। চন্দ্রিমার ঘোনা ও বখতিয়ার ঘোনা এলাকায় যারা পাহাড় কাটছে, দখল করে বিক্রি ও স্থাপনা করে লছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply