বিশেষ প্রতিবেদক।।
কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদে বেসরকারি
ভাবে বিজয়ী ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোরগ প্রতীকের প্রার্থী আবুল বশর এ অভিযোগ তুলেন।
বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) বিকাল আড়াইটার দিকে ১নং চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদ ভোট কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
ভোট কেন্দ্র সুত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদ ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার ১৯৫০ জন। তন্মধ্যে মহিলা ৯২৩ ভোট ও পুরুষ ১০২৭ ভোট। ২নং ওয়ার্ডে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। যেখানে মেম্বার প্রার্থী নাসির উদ্দিন ফুটবল প্রতীক নিয়ে ৪৪১ ভোট ও আবুল বশর মোরগ প্রতীক নিয়ে ৩৯১ ভোট পায়। শুধুমাত্র ৫০ ভোটের ব্যবধানে মোরগ প্রতীকের প্রার্থী পরাজিত হন।
ভুক্তভোগী মোরগ প্রতীকের প্রার্থী আবুল বশর দাবী করেন, বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদের ২য় ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী নাসির উদ্দিনের পক্ষে কাজ করেন ভোট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার কক্সবাজার সিটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ঈদগাহ আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের সিনিয়র শিক্ষিকা শাহিনা বেগম। বিকাল আড়াইটার দিকে এই অভিযুক্ত দুইজনের অনৈতিক সহযোগিতায় ফুটবল প্রতিকের সমর্থক হারুন কেন্দ্রের বাহির থেকে ফুটবল প্রতীকের সীলযুক্ত ব্যালট পেপার বাক্সে ঢুকান। এসময় কিছু ব্যালট বাক্সে ডুকাতে সক্ষম হয় এবং কিছু ব্যালট বাক্সের নীচে পড়ে যায় এবং প্রতিবাদের মুখে কিছু ব্যালট নিয়ে পালিয়ে যায়। বিষয়টি তৎক্ষনাৎ প্রিসাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে জানালেও তারা কোন ধরনের সহযোগিতা করেনি। ওই প্রার্থীর কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে ও পরিকল্পিতভাবে আমার প্রার্থীকে জোর করে ২য় করানো হয়েছে। এ ব্যাপারে দায়িত্বরত ২ প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে জানালেও তারা কর্ণপাত করেনি। অভিযুক্তদের সহায়তায় আমার প্রার্থীকে পরাজিত দেখানো হয়েছে। অনেকটা তড়িঘড়ি করে আমাদের ফলাফল সীট না দিয়ে তারা অলিখিত ঘোষণা দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় আমার ও আমার পরিবারের সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। এই ব্যাপারে যথাযথ প্রতিকারের জন্য আইনী পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান তিনি।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চীফ এজেন্ট নুর মোহাম্মদ (০১৮১৪-৮৩৪০৯৮) জানান, আড়াইটার দিকে ৩/৪ জন যুবক ভোট দেওয়ার নামে আমার বুথে আসেন। এসময় ফুটবল প্রতিকের সমর্থক হারুন প্যান্টের পকেট থেকে বের করে ফুটবল প্রতীকের সীলযুক্ত ব্যালট বাক্সে ডুকান। এসময় কিছু ব্যালট বাক্সের নীচে পড়ে যায় এবং প্রতিবাদের মুখে কিছু ব্যালট নিয়ে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়াকালে তাকে আটকিয়ে ১০/১৫ ব্যালট তার পকেট থেকে উদ্ধার করি। যা আমার বুৎে দায়িত্বরত সকলে অবগত আছে। তাকে প্রশাসনের হাতে তুলে না দিয়ে বরং পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে। ওই অবৈধ ভোট যদি বাক্সে ডুকাতে না পারতো, তাহলে আমরা মোরগ প্রতীক বিজয়ী হতাম। তাই অভিযুক্ত ২ প্রিসাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ঈদগাহ আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের সিনিয়র শিক্ষিকা শাহিনা বেগম (০১৮১৪-৯২৩৯৭৯) বলেন, ভোট শেষ হবার ঘন্টা দেড়এক আগে ফুটবল প্রতিকের ব্যালটে সীলমারা কতগুলো ব্যালট বাহির থেকে এনে বাক্সের মধ্যে ডুকানোর চেষ্টা করে এক ব্যক্তি। এরকম অভিযোগ তাকে ধরে আমরা পুলিশে দিই। এ ঘটনায় হট্টগোল হলে কিছুক্ষণ কেন্দ্র বন্ধ রাখি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারো ভোটগ্রহণ শুরু করি। তবে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে বলে জানান তিনি।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত প্রিসাইডিং অফিসার কক্সবাজার সিটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম (০১৭১১-৭১৭০০১) এর মোবাইলে অনেকবার যোগাযোগ করেও মোবাইলে সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, ওই কেন্দ্রে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী নাসির উদ্দিনের সীলযুক্ত কয়েকটি ব্যালট ও তথ্য উপাত্ত এবং ডকুমেন্ট প্রতিবেদকের কাছে জমা রয়েছে।
Leave a Reply